


সংবাদদাতা, তেহট্ট: বর্তমান বাজারে নতুন পেঁয়াজের দাম বাড়ায় খুশি চাষিরা। বেশ কয়েক বছর পর এবার দাম পাওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন তাঁরা। খুচরো বাজারে কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ১৬ থেকে ১৮ টাকা দাম পাচ্ছেন। এই দামের ফলে চাষিরা বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাভ করছেন। এতে খুশি চাষিরা। নদীয়ার তেহট্ট মহকুমার তেহট্ট-১, করিমপুর-১ ও ২ ব্লকের কাঁঠালিয়া, মহিষবাথান, নাজিরপুর, কিশোরপুর, গড়াইমারির উন্নতমানের পেঁয়াজ সুপ্রসিদ্ধ। পেঁয়াজ চাষিরা বলেন, পেঁয়াজ বেশিদিন ঘরে রাখা যায় না। সংরক্ষণের স্থায়ী উপায় না থাকায় খেত থেকে পেঁয়াজ তোলার পর কম দামেই তা বিক্রি করে দিতে হয়েছিল পরপর বেশ কয়েক বছর। এবছর অন্য বারের তুলনায় দাম বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে যা পেঁয়াজ পাওয়া যায়, তার অধিকাংশই ভিনরাজ্য থেকে বিশেষত মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে আসে। এবছর এখনও নাসিকের পেঁয়াজ না আসায় এই পেঁয়াজের দাম বেশি বলে মনে করছেন চাষিরা। এই পেঁয়াজ ঝাড়খণ্ড, বিহার সহ অন্যন্য রাজ্য যাওয়ায় অন্যবারের থেকে এবার দাম বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
পেঁয়াজ চাষি অনিল ঘোষ বলেন, মহকুমায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়। তার অধিকাংশই শীতকালীন পেঁয়াজ। এইসময় পেঁয়াজ মাঠ থেকে তোলা হয়। তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এবার পেঁয়াজের ফলন ভালো হওয়ায় এবার বিঘাতে ৪৫ থেকে ৫০ কুইন্টাল পেঁয়াজ হয়েছে। এবার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৬ থেকে ১৮ টাকা কেজি দরে। এখন যেহেতু নাসিকের পেঁয়াজ বাজারে আসেনি তাই এখন পেঁয়াজ বিক্রি করলে লাভ হবে। নাসিকের পেঁয়াজ চলে এলে এই দাম আর থাকবে না। এই দাম পাওয়া যাচ্ছে, শুধু এই পেঁয়াজ ঝাড়খণ্ড, বিহার বা অন্য রাজ্যে যাচ্ছে বলে। তিনি আরও বলেন, প্রতিবার তো আর এই দাম পাওয়া যায় না। যেহেতু এখানে কোনও সংরক্ষণ করার জায়গা নেই তাই কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে দিতে হয়। এখানে যদি একটা হিমঘর থাকত, তবে আমরা সময় সুযোগ মতো পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারতাম।