


নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নদীয়া জেলাজুড়ে ব্যাপকভাবে বাড়ানো হচ্ছে বুথের সংখ্যা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি করে নতুন বুথ গঠন করা হচ্ছে। ফলে জেলার মোট বুথ সংখ্যা ৫ হাজারের গণ্ডি ছাড়াতে চলেছে। বর্তমানে জেলায় বুথের সংখ্যা ৪ হাজার ৬৮৬টি। প্রায় ৮০০টি নতুন বুথ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি বুথে ভোটারের সর্বোচ্চ সংখ্যা কমিয়ে ১ হাজার ২০০ করা হয়েছে। পূর্বে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫০০টি। এই নির্দেশ মেনেই পুরনো বুথগুলিকে ভেঙে ভোটার সংখ্যা অনুযায়ী নতুন বুথ তৈরি করা হচ্ছে। ভোটারদেরও প্রয়োজনে অন্য বুথে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জেলা নির্বাচন দপ্তর ভোটার পুনর্বিন্যাস ও বুথ গঠনের জন্য সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে।
নতুন বুথ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। সম্প্রতি উপনির্বাচনকে সামনে রেখে কালীগঞ্জকে ‘মডেল কেন্দ্র’ হিসেবে বেছে নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেই নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে বুথ পুনর্বিন্যাসের কাজ সম্পন্ন হয়। উপনির্বাচনের আগে যেখানে বুথ সংখ্যা ছিল ২৬১টি। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৯টি। অর্থাৎ, কালীগঞ্জ বিধানসভায় ৪৭টি বুথ বাড়ে। এবার জেলায় বাকি ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রেও একইভাবে বুথ সংখ্যা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, সামনের বিধানসভা নির্বাচনে বুথের সংখ্যা বাড়বে। তার জন্য ভোটারদের সমীক্ষার কাজ চলছে। নতুন বুথ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে, ভোটারদের অন্য বুথেও শিফট করানো হবে।
তবে, এই পরিকল্পনা সফল করতে গেলে বড় চ্যালেঞ্জ পর্যাপ্ত সংখ্যক বুথ লেভেল অফিসার নিয়োগ। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, কোনওরকম চুক্তিভিত্তিক, অস্থায়ী বা সাময়িক কর্মীকে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজেই ব্যবহার করা যাবে না। কমিশনের কড়া নির্দেশ অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র গ্রহণ, যাচাই (স্ক্রুটিনি), প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব সহ ভোটের সঙ্গে যুক্ত কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজেই অস্থায়ী কর্মীদের নিযুক্ত করা যাবে না। ফলে, প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। এতদিন পর্যন্ত প্যারাশিক্ষক, আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সহ বিভিন্ন দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বুথ লেভেল অফিসার হিসেবে কাজে লাগানো হতো। এবার তা একেবারে নিষিদ্ধ হওয়ায় স্থায়ী সরকারি কর্মীদের মাধ্যমেই এই বিপুল সংখ্যক বুথ পরিচালনার দায়িত্ব সামলাতে হবে।
নদীয়া জেলা নির্বাচন দপ্তর এখন নতুন বিএলও নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং বুথ বিন্যাস সংক্রান্ত কাজ নিয়ে ব্যস্ত। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভোটারের সংখ্যা অনুযায়ী বুথ গঠন চলছে। কমিশনের নির্দেশ মেনে যেখানে ভোটার সংখ্যা বেশি, সেখানে নতুন বুথ তৈরি হচ্ছে। প্রয়োজন পড়লে ভোটারদের অন্য বুথে সিফট করানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে আগামী ২০২৬ সালের হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আগে নদীয়া জেলার নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও বিস্তৃত এবং আধুনিক এবং নিয়মকানুন মেনে স্বচ্ছভাবে পরিচালনার দিকে এগচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মানতে গিয়ে প্রশাসনের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।