


নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে ভারতের নির্বাচন কমিশন। তার আগেই জোরকদমে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রস্তুতি। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি নদীয়াতেও কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছাতে শুরু করেছে। এদিকে এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা করেও ‘বিচারাধীন’ হিসাবে ভোটারদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা যাতে বিঘ্নিত না হয় তারজন্য ভোট ঘোষণার আগেই আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই নদীয়া জেলায় ১২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে গিয়েছে। আগামী ১০ মার্চের মধ্যে আরও ১৪ কোম্পানি পৌঁছানোর কথা। ফলে ভোট ঘোষণার আগেই জেলায় মোট ২৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, এই বাহিনী মোতায়েন করাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। দুই পুলিশ জেলায় বাহিনী বণ্টন, রুটমার্চের পরিকল্পনা এবং স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিতকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কমিশনের মূল লক্ষ্য, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন সম্পন্ন করা। প্রয়োজনে আরও বাহিনী পাঠানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
নদীয়া জেলায় মোট ৪৬৮৬টি বুথ রয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক এলাকায় রুটমার্চ শুরু হয়েছে। জওয়ানরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। নির্বাচনী উত্তেজনা প্রশমন এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই উদ্দেশ্য বলে প্রশাসনের বক্তব্য।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি কোম্পানিতে গড়ে ৭৫-৮০ জন জওয়ান থাকেন। সেই হিসাবে ২৬ কোম্পানিতে প্রায় ২০৮০ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান থাকবেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বুথে সর্বাধিক ১২০০ জন ভোটার রাখার নির্দেশ রয়েছে। তবে, বর্তমানে এসআইআর সংক্রান্ত কাজ চলায় বুথ পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, চূড়ান্তভাবে বুথ পুনর্গঠন হলে নদীয়ায় আরও প্রায় ৫০৩টি নতুন বুথ বাড়তে পারে। যদিও শেষ পর্যন্ত এই সংখ্যা বাড়বে কি না, তা নিয়ে প্রশাসন এখনও নিশ্চিত নয়।
ইতিমধ্যেই কালীগঞ্জ, চাপড়া, কৃষ্ণনগর সহ একাধিক মহকুমা এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, জেলা পুলিশের তরফেও কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে অশান্তি রুখতেই আগাম কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এবিষয়ে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এক আধিকারিক বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পৌঁছেছে। জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে তারা কাজ করছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য।’ সেইসঙ্গে জেলাজুড়ে স্পর্শকাতর বুথ এবং যারা ভোটের কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে তাদের খোঁজ করছে পুলিশ। সেইমতো প্রশাসনের তরফে এলাকাভিত্তিক রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বিচারাধীন ভোটারদের নিয়ে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যার ফলে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা করছে বিভিন্ন মহল। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে নির্বাচন কমিশন।