প্রীতেশ বসু, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকা তৈরির কাজ আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ গিয়েছে জেলায় জেলায়। সেক্ষেত্রে কোনো যোগ্য উপভোক্তার নাম বাদ যাওয়া আটকাতে স্থানীয় সাংসদ, বিধায়ক ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধির সহযোগিতা নিয়ে তালিকা তৈরির নির্দেশ দিল নবান্ন। অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধানদের অনুপস্থিতির কারণে ১২৫ দিনের কাজে গতি আনতেও বিধায়কদের সক্রিয় ভূমিকার কথা বলা হয়েছে রাজ্যের তরফে। শুক্রবার আবাস প্রকল্প নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে দু’টি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তরের তরফে। প্রথম চিঠিতে ২০ জুলাই থেকে সমীক্ষার সময়সীমা ১৫ আগস্ট করার বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্বিতীয় চিঠিতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্ভুল তালিকা তৈরির জন্য পাঁচটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে।
রাজ্যের পাঠানো নির্দেশিকায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘একটিও যোগ্য পরিবার যেন সমীক্ষার বাইরে না থাকে।’ বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে সাংসদ, বিধায়ক এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের বিডিও বা এসডিওর কাছে যোগ্য পরিবারের তথ্য তুলে দিতে হবে। আগেই এই প্রকল্প সংক্রান্ত ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ জারি করেছে রাজ্য। তার ১১ নম্বর ধারার আওতায় জেলাস্তরে সাংসদের নেতৃত্বে থাকা দিশা কমিটি এবং বিধায়কদের নেতৃত্বাধীন ব্লক স্তরের কমিটিগুলিকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানোর কথা বলা আছে। ফলে উপভোক্তা যাচাইয়ের কাজে সাংসদ-বিধায়কদের সহযোগিতা নেওয়ায় কোনো সমস্যা নেই বলেই মত প্রশাসনিক মহলের। তাছাড়া, জনপ্রতিনিধিরা এই প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকলে যোগ্য উপভোক্তা বাদ পড়ার আশঙ্কাও খুব একটা থাকবে না বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’, কেন্দ্রীয় অভিযোগ পোর্টাল, ই-মেল, হোয়াটসঅ্যাপ এবং স্থানীয় দপ্তরের মাধ্যমে আসা অভিযোগগুলি যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এবং অভিযোগ পোর্টালের মাধ্যমে আসা নামগুলি ধরে তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারি আধিকারিকরাই যাচাই করবেন। তারপর চূড়ান্ত তালিকায় নাম তোলার ছাড়পত্র মিলবে।
সূত্রের খবর, কয়েক সপ্তাহ আগে নতুন করে উপভোক্তা তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১০ লক্ষ নাম এসেছে দপ্তরের কাছে। সেগুলি ঝাড়াই বাছাইয়ের কাজও চলছে জোরকদমে। নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাইয়ের কাজ শেষ করার কথা বলা হয়েছে। তাহলে সময়সীমা (১৫ আগস্ট) শেষ হওয়ার পাঁচ দিন আগে থেকে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা দেখে নিতে পারবেন, কোথাও কোনো যোগ্য উপভোক্তার নাম ওঠা বাকি রয়েছে কি না।