নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে সরকার বদলেছে। কিন্তু কলেজে ভরতির নামে টাকা তোলার অভিযোগ ওঠা বন্ধ হয়নি। এবার উত্তর কলকাতার শ্রীশচন্দ্র কলেজে ভরতির নামে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, দাবি অনুযায়ী টাকা দেওয়ার পর কলেজে ভরতি করাননি অভিযুক্ত। বেপাত্তাও হয়ে যান। এরপর অভিযোগকারী এবং আরও দুই ছাত্রী শ্যামপুকুর থানায় যান। অভিযোগ জানান। প্রতারণার মামলা রুজু করে পুলিশ। অভিযোগকারীরা জানান, অভিযুক্তের নাম গৌরব চৌবে (২৮)। লালবাজার সূত্রে খবর, অভিযোগকারীর মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে সন্ধান মিলেছে। গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
অভিযোগকারী ছাত্রীর নাম শ্রাবণী দাস (১৮)। তিনি উত্তর কলকাতার কাশী মিত্র ঘাট স্ট্রিটের বাসিন্দা। এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন। তিনি দুই বান্ধবীর সঙ্গে শ্রীশচন্দ্র কলেজে ভরতির জন্য যান। কলেজে গৌরবের সঙ্গে পরিচয় হয়। টাকা দিলে পছন্দমত বিষয় নিয়ে অনার্সে স্নাতকস্তরে ভরতি করানোর প্রতিশ্রুতি দেন গৌরব। তারপর তিন ছাত্রী মিলে ১০ হাজার টাকা দেন। তাঁদের যাবতীয় ব্যক্তিগত নথির আসল কপি দিতেও বলেছিলেন গৌরব। অভিযোগকারী পুলিশকে জানিয়েছেন, ১৩ জুন সন্ধ্যায় বাগবাজার স্টেশনের কাছে একটি মন্দিরের সামনে তাঁদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন অভিযুক্ত। সেখানে তিনজনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন। এছাড়াও তিনজনের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকের অ্যাডমিট, মার্কশিট, আধার কার্ড, দু’কপি করে ছবি চেয়ে নেন। এসব নিয়ে মাসখানেক পর যোগাযোগ করতে বলেন।
মাসখানেক পর যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন অভিযোগকারী। কিন্তু গৌরব ফোন ধরেননি। এরপর কলেজে গিয়ে খোঁজ করেন ছাত্রীরা। কিন্তু গৌরবের খোঁজ পাননি। নথিপত্র তাঁর কাছে থেকে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তিন ছাত্রী। তাঁরা শ্যামপুকুর থানায় যান। পুলিশে লিখিত অভিযোগ জানান শ্রাবণী। তদন্ত শুরুর পর শ্যামপুকুর থানা গৌরবের মোবাইল ট্র্যাক করে। তারপর জানতে পারে সিঁথি এলাকায় থাকেন গৌরব। সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। সূত্রের খবর, অভিযুক্তকে তাঁর বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতকে শিয়ালদহ আদালতে পেশ করা হয়েছিল। বিচারক পুলিশ হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ছাত্রীদের নথি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।