


সমীর সাহা, নবদ্বীপ: বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপ জয়ে পোড়খাওয়া সংগঠক পুণ্ডরীকাক্ষ সাহার উপরই ভরসা রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ডবল হ্যাটট্রিক করতে চান পুণ্ডরীকাক্ষবাবুও। বয়স কিন্তু বাধা নয়। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রতি আস্থা রেখেছেন। তাই নবদ্বীপের আসনটা দলনেত্রীর হাতে তুলে দিতে তিনি বদ্ধপরিকর। মঙ্গলবার দলের সদর দপ্তর থেকে তাঁর নাম প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা হতেই উচ্ছ্বসিত নবদ্বীপের তৃণমূল কর্মী, সমর্থকরা। বুধবার সকাল সকাল পুণ্ডরীকাক্ষ সাহার (নন্দ সাহা) বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল তিনি বিধানসভায় মিটিংএ যাবেন বলে তৈরি হচ্ছেন। এদিনও চিরাচরিত সেই ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি, পায়জামা পরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লেন কলকাতার উদ্দেশে। তবে তার আগেই স্থানীয় কিছু মানুষের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ সেরে নেন।
এদিন পুণ্ডরীকাক্ষবাবু বলেন, মানুষের সেবা করাই মূল কাজ। আর মহাপ্রভুর কৃপায় নবদ্বীপে শান্তি বজায় থাকবে। নাম ঘোষণার পর কর্মীরা প্রচার, দেওয়াল লিখন শুরু করেছে। আশা করছি, নবদ্বীপবাসী এবারও আমার উপর ভরসা রাখবেন।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে বাম জমানার রমরমায় নবদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথম নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জিতেছিলেন পুণ্ডরীকাক্ষ। পরবর্তীতে ২০০৬, ২০১১, ২০১৬, ২০২১ সালে তিনি পরপর নির্বাচিত হন। প্রতিটি নির্বাচনে ভোটের মার্জিন বেড়েছে। ২০১১ সালের পর পিএইচই দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন। নবদ্বীপের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একের পর এক উন্নয়ন করেছেন। শুধু বিধায়ক নন, তিনি নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন।
বিজেপির নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা (নন্দ) পাঁচবারের বিধায়ক ছিলেন। আমি একজন রাজনৈতিক কার্যকর্তা। সেই হিসেবে নন্দবাবুকে ব্যক্তিগতস্তরে সম্মান এবং শ্রদ্ধা করি। কিন্তু উনি জনপ্রতিনিধি হিসাবে সার্বিক পরিকাঠামো রূপায়ণের ক্ষেত্রে অনেকটাই ব্যর্থ। তার কারণ উনি একসময় রাজ্য সরকারের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। অথচ নবদ্বীপে একমাত্র স্টেট জেনারেল হাসপাতালের ন্যূনতম চিকিৎসার পরিকাঠামো রুপায়ণে উনি ব্যর্থ। সেই সঙ্গে নবদ্বীপের কাঁসা শিল্প, তাঁত শিল্প, বিড়ি শিল্প আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের রানাঘাট দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার অন্যতম সাধারণ সম্পাদক বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, এখানে বড় সমস্যা ছিল ওভারহেড বিদ্যুৎ সংযোগ। এখানকার অন্যতম বড়ো উৎসব রাস। বড়ো বড়ো প্রতিমার কারণে পুজোর দিনগুলিতে শহরে ওভারহেড তারে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখতে হত। ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু হয়েছে। স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নবদ্বীপ এবং পার্শ্ববর্তী পূর্ব বর্ধমান জেলার অসুস্থ মানুষজন চিকিৎসা করাতে আসেন। হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংকের প্রয়োজন ছিল। সেই ব্লাড ব্যাঙ্কও হয়েছে। এছাড়া রবীন্দ্র সংস্কৃতি মঞ্চ, অডিটোরিয়াম ,লঞ্চ পরিষেবা, শহরে নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা লাগানোর মত বহু উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। নিজস্ব চিত্র