সমীর সাহা, নবদ্বীপ: স্মার্ট সিটি হোক তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মভূমি নবদ্বীপের ঐতিহ্য সুরক্ষিত থাকুক। এমনটাই চাইছেন নবদ্বীপবাসী।
সমীর সাহা, নবদ্বীপ: স্মার্ট সিটি হোক তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মভূমি নবদ্বীপের ঐতিহ্য সুরক্ষিত থাকুক। এমনটাই চাইছেন নবদ্বীপবাসী।
হেরিটেজ শহর নবদ্বীপকে কেন্দ্রের স্মার্ট সিটি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছে রাজ্য। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্যতম এই বৈষ্ণব তীর্থ হয়ে উঠবে অত্যাধুনিক শহর। ঝকঝকে রাস্তা থেকে শুরু করে ডিজিটাল নির্ভর নাগরিক পরিষেবা, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ, পরিবেশ বান্ধব শক্তির ব্যবহার, আধুনিক ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, উন্নত গণপরিবহণ ব্যবস্থা চালু সহ একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে এই স্মার্ট সিটি প্রকল্পে। সবকিছু ঠিকঠাক চললে ভোলবদলে যাবে প্রাচীন নবদ্বীপের। কিন্তু এই ভোল বদলাতে গিয়ে যাতে ঐতিহ্যের গায়ে আঁচড় না পড়ে, সে ব্যাপারেও সতর্ক করে দিয়েছেন নবদ্বীপবাসী ও মঠ মন্দিরের কর্মকর্তারা। তাঁদের বক্তব্য, নবদ্বীপে মণিমুক্তোর মতো ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। স্থানে স্থানে ঐতিহ্যের রত্ন ভাণ্ডার গচ্ছিত। স্মার্ট সিটি প্রকল্পের বাস্তবায়নে এইসব ইতিহাস সম্পদ সুরক্ষায় অগ্রাধিকার দিতে হবে সরকারকে।
এক্ষেত্রে আশার কথা, নবদ্বীপের বিজেপি বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী ঐতিহ্যবাহী বৈষ্ণব পরিবারের সন্তান। নবদ্বীপের ঐতিহ্য সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত সচেতন। কোথায় কী রয়েছে, সেগুলি তাঁর নখদর্পণে। তিনি অবশ্যই চাইবেন সংবেদনশীলতার সঙ্গে নবদ্বীপের ঐতিহ্য রক্ষিত হবে।
বিধায়ক শ্রুতিশেখর নিজেও জানান, চৈতন্য মহাপ্রভুকে কেন্দ্র করেই নবদ্বীপকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাতে শহরের ঐতিহ্য সুরক্ষিত রাখা আমাদের দায়িত্ব।
সম্প্রতি রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, কেন্দ্রীয় স্মার্ট সিটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে রাজ্য। সেই সুবাদে রাজ্যে কয়েকটি স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য স্মার্ট সিটির তালিকায় রয়েছে নবদ্বীপ, আসানসোল, শিলিগুড়ি ও তমলুক। যদিও এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
নবদ্বীপ ধামেশ্বর মহাপ্রভু মন্দিরের সভাপতি সুদিন গোস্বামী বলেন, স্মার্ট সিটি করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে তাতে আমরা খুব খুশি। আমরা চাই নবদ্বীপ ধামের ঐতিহ্যকে বজায় রেখে এই স্মার্ট সিটি প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হোক। আমরা ধন্যবাদ জানাই রাজ্য সরকারকে।
এদিন বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী বলেন, স্মার্ট সিটির জন্য আমরা আবেদন করেছিলাম। সেই কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। এই শহরের উন্নয়নের প্রতিটি পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন মহাপ্রভু। সব বিষয়ে মহাপ্রভুকে কেন্দ্র করেই কাজ হবে। অনুমোদন মিললেই গৌরভূমির রাস্তা, নাগরিক পরিকাঠামো এবং পরিষেবার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাবে।
কেন্দ্রের স্মার্ট সিটি মিশন ২০১৫ সালে চালু হয়। এর লক্ষ্য উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক পরিকাঠামো ও দক্ষ নাগরিক পরিষেবার মাধ্যমে শহরগুলির জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। নিজস্ব চিত্র