Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নয়া প্রজাতির প্যাঙ্গোলিনের খোঁজ জেডএসআইয়ের

নয়া প্রজাতির প্যাঙ্গোলিনের খোঁজ জেডএসআইয়ের
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একেবারে নতুন ধরনের প্যাঙ্গোলিনের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা। জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (জেডএসআই) বিজ্ঞানী মুকেশ ঠাকুরের নেতৃত্বে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক লেনরিক কনচোক ওয়াঙ্গমো ভারত-মায়ানমার সীমান্তে এই প্যাঙ্গোলিনের খোঁজ পেয়েছেন। তাই এর নাম দেওয়া হয়েছে ইন্দো-বার্মিজ প্যাঙ্গোলিন (ম্যানিস ইন্দোবার্মানিকা)। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ৩৪ লক্ষ বছর আগে চীনা প্যাঙ্গোলিন ম্যানিস পেন্টাডেকটাইলা থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল এই প্রজাতিটি। তারপর ভারত-মায়ানমার সীমান্তের বিস্তীর্ণ ঘন জঙ্গলে বসবাস শুরু করে তারা। এখানকার ভূ-প্রকৃতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদেরও অভিযোজন করেছে এই প্যাঙ্গোলিনরা। জিনগত বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, চীনা প্যাঙ্গোলিনের চেয়ে অনেকটাই আলাদা এই প্রজাতিটি।
Advertisement
বিজ্ঞানী মুকেশ ঠাকুর বলেন, নতুন প্রজাতির প্রাণীর খোঁজের জন্য নয়া প্রযুক্তি ব্যবহার খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই প্রজাতিটিকে পৃথক করা সম্ভব হয়েছে উন্নত প্রযুক্তির জন্য। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লেনরিক অরুণাচল প্রদেশ থেকে এই প্রজাতির হলোটাইপ এবং প্যারাটাইপ প্রজাতিগুলি শনাক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এরকম কাজে অবদান রাখতে পারলে বেশ ভালো লাগে। এর ফলে ওই অঞ্চলে প্যাঙ্গোলিন সংরক্ষণ, তাদের খাদ্য এবং বাসস্থান নিশ্চিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ল।
প্যাঙ্গোলিন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পাচার হওয়া প্রাণীগুলির মধ্যে অন্যতম। তাই নয়া আবিষ্কারে ভয়ও বাড়ছে। জেডএসআইয়ের অধিকর্তা ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ওই অঞ্চলটি বিশ্বের বৃহত্তম জীববৈচিত্র্যের আকর। তাই বিশেষভাবে সেখানে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয়দের কাজে লাগিয়ে নজরদারির ব্যবস্থা করা উচিত।’ প্রসঙ্গত, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে অস্থির এলাকার মধ্যে সেই অঞ্চলের অনেকটা অংশ পড়ে। অনেক সময় সাধারণ চোকাশিকারিদের পাশাপাশি জঙ্গিরাও তহবিল জোগাড়ের জন্য বন্য প্রাণী শিকার এবং চোরাচালানে যুক্ত হয়ে পড়ে। তাই ওই এলাকায় বিশেষভাবে নজরদারি প্রয়োজন।
সম্পর্কিত সংবাদ