নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রহস্যজনকভাবে উদ্ধার হল দুই লিভ-ইন পার্টনারের রক্তাক্ত মৃতদেহ। বৃহস্পতিবার ভোররাতে হুগলির বৈদ্যবাটি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীতারামবাগানে ঘটনাটি ঘটেছে। ভোররাতে স্থানীয় বাসিন্দা তারারানি পাত্রের বাড়ির পিছন থেকে আর্ত চিৎকার শুনতে পান প্রতিবেশীরা। তাঁরা গিয়ে দেখেন, ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া যুগল রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। দ্রুত তাঁদের শ্রীরামপুরের ওয়ালশ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দু’জনের শরীরেই ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিস জানিয়েছে, মৃতদের নাম মণীশ ভাদুড়ি (৩৫) ও অপর্ণা মাঝি (৩৩)। মণীশ একটি ঢালাই কারখানার শ্রমিক ছিলেন। অপর্ণা পরিচারিকার কাজ করতেন। গত পাঁচ বছর ধরে তাঁরা লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে দু’টি রক্তমাখা ছুরি পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি, বেশ কিছু রক্তাক্ত জামাকাপড়, একপাটি জুতোও মিলেছে। প্রাথমিক তদন্তের পর তদন্তকারীদের একাংশ জানিয়েছে, বুধবার রাতে মণীশ ও অপর্ণার মধ্যে সম্ভবত বিবাদ হয়েছিল। সেটিই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চেহারা নেয়। দু’জনের বুকে ও পেটে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যা পারস্পরিক হামলার জেরেই তৈরি হয়েছিল। যদিও শ্রীরামপুর থানার পুলিস জানিয়েছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা নিজেরা খুনোখুনি করেছেন, নাকি বাইরে থেকে কেউ এসে খুন করেছে, সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৈদ্যবাটি পুরসভার স্থানীয় কাউন্সিলার স্বপন ঘোষ বলেন, ওই দু’জন তারারানি পাত্রের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। দু’জনেই সকালে কাজে বেরিয়ে যেতেন, রাতে ফিরতেন। রাজারবাগানে মণীশের নিজস্ব বাড়ি আছে। কিন্তু অপর্ণার সম্পর্কে বিশেষ তথ্য বাড়ির মালকিন জানতেন না। তবে তাঁর একটি সন্তান আছে। সে অন্যত্র থাকে। ঘটনা রহস্যজনক। পুলিস সত্য উদঘাটন করুক, সেটাই চাই।
মণীশকে এলাকার লোকে চিনতেন। এদিন ভোরে প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান, মণীশ বাড়ির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। স্থানীয়রা তাঁর পরিবারের লোকজনকে খবর দেন। তাঁরাই পুলিসকে বিষয়টি জানান। পুলিস ও মণীশের বাড়ির লোকজন ওই যুগলকে হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে যান। অপর্ণাদেবী ঘরের মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, রাতে তেমন চিৎকার বা ঝগড়া শোনা যায়নি। দু’জনকে যখন উদ্ধার করা হয়, তখন কেউই কথা বলার অবস্থায় ছিলেন না। ফলে, বিষয়টি খুনোখুনি, নাকি বাইরে থেকে এসে কেউ খুন করেছে, তা নিয়ে ধন্দ কাটছে না। আপাত শান্ত সীতারামবাগানে এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।