Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ময়ূরেশ্বরে গভীর রাতে বালি খাদানে অভিযানে জেলাশাসক

ময়ূরেশ্বরে গভীর রাতে বালি খাদানে অভিযানে জেলাশাসক
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কাঠের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা আটকেও হল না শেষরক্ষা। গভীর রাতে বাধা টপকে ময়ূরেশ্বরে চুরি রুখতে বালি ঘাটে হানা দিলেন জেলাশাসক। বাজেয়াপ্ত করা হল নদীগর্ভ থেকে বালি তোলার স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রাংশ ও নৌকা। আটক করা হয়েছে দশটিরও বেশি ওভারলোডেড বালি বোঝাই ডাম্পার। কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও জেলাশাসকের নির্দেশে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিস।
Advertisement
দীর্ঘদিন ধরেই ময়ূরেশ্বরে কুণ্ডলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পীরতলা, খাটগোলা সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ময়ূরাক্ষী নদী থেকে অবাধে বালি তুলে পাচার হয়ে আসছে। ক্ষতি হচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। এখানে রাজনৈতিক দলের নেতা, বালি মাফিয়ারা মিলেমিশে একাকার। কার্যত এখানে বালি মাফিয়াদের রাজ চলে। কিছুদিন আগে বীরভূমের বালি পাচার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলাশাসককে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। এরপরই রাতের অন্ধকারে নানুর সহ একাধিক অবৈধ বালিঘাটে অভিযান করেছেন জেলাশাসক। কিন্তু বুধবার রাতে এক অন্য অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন তিনি। রাত তখন দেড়টা। স্থানীয় পুলিস, প্রশাসনকে না জানিয়ে এক এডিএম এবং এক এলআরকে নিয়ে ময়ূরেশ্বরে পীরতলা বালিঘাটে আসেন তিনি। এই ঘাটটি বৈধ হলেও নদী থেকে তখন অবৈধ উপায়ে বালি তোলা হচ্ছিল। সাকশন ফিল্টার লাগানো ড্রেজিং বোট নদীর মাঝখানে নিয়ে গিয়ে গভীর গর্ত করে বালি তোলা হচ্ছিল। এবং ডাম্পারগুলিতে বালি লোড করা হচ্ছিল। যদিও প্রশাসনিক কর্তাদের দেখে চম্পট দেয় বালি উত্তোলনকারীরা। সেখানকার স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি সহ বেশ কিছু ওভারলোডেড বালি বোঝাই ডাম্পার আটক করা হয়। 
ঘড়িতে রাত পৌনে দুটো। পীরতলা ঘাটের ২০০ মিটারের মধ্যে একটি খাটগোলা অবৈধ ঘাটে যাওয়ার সময় দেখেন রাস্তার ধারে একটি কাঠমিল। সেই মিলের কাঠ রাস্তায় ফেলে রাখায় গাড়ি যাতায়াত বন্ধ। তবে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যাননি জেলাশাসক। গাড়ি রাস্তায় রেখে কাঠ টপকে টপকে অবৈধ বালি ঘাটে হানা দেন প্রশাসনিক কর্তারা। দেখেন নদী থেকে বালি তুলে ডাম্পারে লোড দেওয়ার কাজ চলছে। প্রশাসনের লোকজনেরা টর্চ মারতেই দে-দৌড় মাফিয়াদের। 
সরেজমিনে দেখে এরপর ফোন করে ব্লকের বিডিও এবং ওসিকে ডাকেন জেলাশাসক। কাঠের গুঁড়ি, বালি উত্তোলনের নৌকা ও বেশ কিছু ওভারলোডেড বালি বোঝাই ডাম্পার বা঩জেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন তিনি। পরে তিনি বিএলএলআরও দপ্তরের চেকপোস্টে আসেন। সেখানেও কয়েকটি ওভারলোডেড বালি বোঝাই ডাম্পার আটক করার নির্দেশ দেন। 
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় ব্লক প্রশাসনের কর্তারা এই ঘাটে অভিযান চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কাঠ ফেলে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় সকলে ফিরে যান। এরপর মাঝরাতে জেলাশাসক যেভাবে সেই সব বাধা টপকে অবৈধ ঘাটে হানা দিয়েছেন, তাতে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁরা বলেন, অবৈধ ঘাটে ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে অনেক জায়গায় নদীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত এবং দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্ষায় এলাকা প্লাবনের আশঙ্কা প্রবল। তাছাড়া দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে গ্রামীণ রাস্তা। স্থানীয় পুলিস প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের মদতে এই অবৈধ কারবার চলছে বলে অভিযোগ। 
জেলাশাসক বলেন, অভিযানে ১০টিরও বেশি বালি বোঝাই ডাম্পার, বালি তোলার স্বয়ংক্রিয় মেশিন ও নৌকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আমাদের অভিযান জারি থাকবে। সব জায়গায় আমি থাকতে না পারলেও প্রশাসনের আধিকারিকরা যাবেন। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ