নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জলজ্যান্ত তিনটি জীবন একপলকে সব শেষ। রবিবার সরস্বতীর পুজোর সকালে নতুন নিকাশি লাইনের ম্যানহোলে কাজ করতে যান দুই শ্রমিক। সেখানে রাসায়নিকযুক্ত গ্যাসে দমবন্ধ হয় যায় তাঁদের। ওই দুই শ্রমিককে উদ্ধার করতে নামেন তৃতীয়জন। একই পরিণতি হয় তাঁরও। সেই গ্যাসের জেরে শ্বাসরোধ হয়ে ম্যানহোলের ভিতরেই মৃত্যু হয় তিন ঠিকা শ্রমিকের। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় ১০ ফুট গভীর ম্যানহোল থেকে তিনজনের নিথর দেহ উদ্ধার করে দমকল, পুলিস ও বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগ। লালবাজার জানিয়েছে, মৃতদের নাম ফারজেম শেখ, হাসিবুর রহমান ও সুমন সর্দার। রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স থানা এলাকার সেক্টর ৬-এর ৪৫২ নম্বর প্লটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (কেএমডিএ) দাবি, ম্যানহোলে কোনওভাবে ট্যানারির রাসায়নিক মিশ্রিত জল ঢুকে যায়। তার জেরেই বদ্ধ জায়গায় প্রাণঘাতী গ্যাস তৈরি হয়। তাতেই সম্ভবত মৃত্যু হয়েছে তিন শ্রমিকের। পৃথকভাবে ঘটনার তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিস ও কেএমডিএ। এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। মৃতদের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেন মন্ত্রী।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে খবর, বেশ কয়েকদিন ধরে ৬ নম্বর সেক্টরে নিকাশি লাইনের কাজ চলছে। পাইপ ইতিমধ্যেই বসে গিয়েছে। এখন ম্যানহোলের কাজ চলছিল। এদিন সকালে ৪৫২ নম্বর প্লটের একটি ম্যানহোলে কাজ করতে ঢোকেন হাসিবুর ও ফারজেম। তাঁরা মুর্শিদাবাদের লালগোলার বাসিন্দা। কেএমডিএ নিযুক্ত এক ঠিকাদারের অধীনে কাজ করতেন তাঁরা। প্রায় ৪৫ মিনিট কেটে গেলেও তাঁরা উপরে না ওঠায় সন্দেহের বশে নীচে নামেন ন্যাজাটের বাসিন্দা সুমন। কিন্তু, তিনিও উঠে না আসায় অন্যান্য শ্রমিকরা ঠিকাদারকে বিষয়টি জানান। সেই সূত্রে খবর পায় কেএলসি থানার পুলিস, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর। এরপর কোমরে দড়ি বেঁধে মুখে মাস্ক পরে ম্যানহোলে নামেন কর্মীরা। উদ্ধার করা হয় তিন শ্রমিককে। তাঁদের গা থেকে তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ বের হচ্ছিল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কেএমডিএর এক আধিকারিক বলেন, ‘বানতলা লেদার কমপ্লেক্সের অ্যাসোসিয়েশনের দাবি মেনে এমএসএমই দপ্তর আমাদের নতুন নিকাশিনালা তৈরি করতে বলেছিল। তাই ম্যানহোল তৈরি করা হচ্ছিল। বিভিন্ন কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের তরল বর্জ্য পাম্প করে লেদার কমপ্লেক্সের রাস্তায় কিংবা ফাঁকা জমিতে ফেলে দেয়। সেকারণে লেদার কমপ্লেক্স এলাকায় গেলে বিভিন্ন জায়গায় জমা জলের দেখা মেলে। সম্ভবত সেই জলই কোনওভাবে এই নিকাশি নালার ভিতরে ঢুকে গিয়েছিল। বিষাক্ত এই জলের গন্ধ সহ্য করা অসম্ভব। সম্ভবত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে মৃত্যু হয়েছে তিন শ্রমিকের।’ ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক। কীভাবে ঘটল, তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়েছি।’ নিজস্ব চিত্র
কেএমডিএর এক আধিকারিক বলেন, ‘বানতলা লেদার কমপ্লেক্সের অ্যাসোসিয়েশনের দাবি মেনে এমএসএমই দপ্তর আমাদের নতুন নিকাশিনালা তৈরি করতে বলেছিল। তাই ম্যানহোল তৈরি করা হচ্ছিল। বিভিন্ন কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের তরল বর্জ্য পাম্প করে লেদার কমপ্লেক্সের রাস্তায় কিংবা ফাঁকা জমিতে ফেলে দেয়। সেকারণে লেদার কমপ্লেক্স এলাকায় গেলে বিভিন্ন জায়গায় জমা জলের দেখা মেলে। সম্ভবত সেই জলই কোনওভাবে এই নিকাশি নালার ভিতরে ঢুকে গিয়েছিল। বিষাক্ত এই জলের গন্ধ সহ্য করা অসম্ভব। সম্ভবত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে মৃত্যু হয়েছে তিন শ্রমিকের।’ ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক। কীভাবে ঘটল, তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়েছি।’ নিজস্ব চিত্র



