বারাসতের সন্ধানীতে মায়ানমারের স্বর্ণমন্দির, মাইকেল নগরের নেতাজি সংঘে কর্ণাটকের কৃষ্ণমন্দির
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: সোনালি গম্বুজের মাথায় সূর্যের আলো। নিপুণ কারুকাজে নির্মিত মন্দির। শান্ত, স্নিগ্ধ আধ্যাত্মিক আবহ। দূর মায়ানমারের ঐতিহ্যবাহী স্বর্ণমন্দির যেন এবার উঠে আসছে বারাসতের কালীপুজোয়। ৬৬ তম বর্ষে সন্ধানী ক্লাবের ভাবনায় মায়ানমারের স্বর্ণমন্দির। মণ্ডপসজ্জায় ফুটে উঠবে গৌতম বুদ্ধের জীবনদর্শন। আগামী ৬ তারিখ উদ্বোধন পুজোর।

Advertisement

মায়ানমারের ইয়াঙ্গনে অবস্থিত এই মন্দির বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত বৌদ্ধ স্থাপত্য। সোনার প্রলেপে মোড়া সুউচ্চ চূড়া, গম্বুজের গায়ে সূক্ষ্ম অলংকরণ এবং স্থাপত্য নির্মাণের আভিজাত্য মন্দিরটিকে স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে। দিনের আলোয় সোনালি আভায় ঝলমল করে চূড়া। সন্ধ্যার আলোয় সেই স্বর্ণাভ রূপ আরও মায়াবী। ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস ও শিল্পকলার এমন মেলবন্ধন এবার বারাসতের সন্ধানী ক্লাবের মণ্ডপে তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে। প্রায় ৬০ ফুট উচ্চতা এবং ৭০ ফুট চওড়া মণ্ডপে ফুটে উঠবে স্বর্ণমন্দিরের আদল। সোনালি রঙের ব্যবহার, স্থাপত্যের খুঁটিনাটি এবং বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গে সাজবে মণ্ডপ। তবে এবারের ভাবনা শুধু মন্দিরের অনুকরণে সীমাবদ্ধ নয়। গৌতম বুদ্ধের শান্তি, অহিংসা, করুণা ও সম্প্রীতির বাণীকেও তুলে ধরতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। উদ্যোক্তা প্রেমা রায় বলেন, ‘পুজো উপলক্ষ্যে ১১ নম্বর রেল গেট থেকে ডাকবাংলো পর্যন্ত থাকবে আলোকসজ্জা। পাশাপাশি থাকছে মেলার আয়োজন। ফলে মণ্ডপ দর্শনের সঙ্গে কেনাকাটা ও আনন্দে মেতে ওঠার সুযোগও পাবেন দর্শনার্থীরা। পুজোর বাজেট প্রায় ২০ লক্ষ টাকা।’
কর্নাটকের ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রাচীন কৃষ্ণ মন্দিরের আদলে সেজে উঠছে মাইকেল নগরের নেতাজি সঙ্ঘের কালীপুজোর মণ্ডপ। এবছর ৫৯ তম বর্ষে পা দিল এই পুজো। কর্নাটকের উডুপিতে অবস্থিত বিখ্যাত কৃষ্ণ মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে ভক্ত কনকদাসের কাহিনি। কথিত, মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে তিনি বাইরে থেকেই কৃষ্ণের আরাধনা করতেন। তাঁর ভক্তিতে আপ্লুত হয়ে মন্দিরের একটি ছোট অলংকৃত জানলা, ‘কনকন কিণ্ডি’র দিকে মুখ ফিরিয়ে তাঁকে দর্শন দেন কৃষ্ণ। সেই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় কাহিনিই এবার মণ্ডপসজ্জায় তুলে ধরা হচ্ছে। মণ্ডপে কৃষ্ণের বিভিন্ন রূপ দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে। এছাড়া থাকছে আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা। পুজোর যাবতীয় কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ। পুজোর দিনগুলিতে বিশিষ্ট শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। পুজো কমিটির কর্তা বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ‘কর্নাটকের কৃষ্ণ মন্দিরের আদলে মাতৃমণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পুজোর দিনগুলি আনন্দে কাটে।’