Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

আমার অভিনেত্রী হওয়ার নেপথ্যে দিদিমার অবদান সবথেকে বেশি

ক্তির অপেক্ষায় সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত ‘ওসিডি’। মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন জয়া আহসান। একান্ত সাক্ষাৎকারে ভাগ করে নিলেন নানা কথা।

আমার অভিনেত্রী হওয়ার নেপথ্যে  দিদিমার অবদান সবথেকে বেশি
  • ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মুক্তির অপেক্ষায় সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত ‘ওসিডি’। মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন জয়া আহসান। একান্ত সাক্ষাৎকারে ভাগ করে নিলেন নানা কথা।

Advertisement

শ্বেতা, নাকি সোয়েটা, কোন নামে ডাকব আপনাকে?

আপাতত শ্বেতা। সোয়েটা নয় (হাসি)। আসলে এটা ‘ওসিডি’-র সংলাপ। এখন শ্বেতা হয়েই আছি (হাসি)।

‘অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার’ কীভাবে ছবিটির সঙ্গে জড়িয়ে?

দেখবেন ওসিডির উপর একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন রয়েছে ছবির পোস্টারে। অর্থাৎ আসলেই কি ওসিডি? নাকি অন্যকিছু? এই প্রশ্নটা আসছে তার অনেক কারণ রয়েছে। শ্বেতার জীবনের জার্নি, তার শৈশব রয়েছে ছবিতে। সেখানে পিডোফিলিয়া একটি বিষয়। মেয়েটি পেশায় ডার্মাটোলজিস্ট। তার ওসিডি রয়েছে নাকি নেই, সেটাই আসলে একটা প্রশ্ন। এর উত্তর দর্শকই দিতে পারবেন।

চিত্রনাট্যে কোন বিষয়টা প্রথমে আকর্ষণ করেছিল?

সৌকর্য ঘোষাল নামটা। আমার খুব পছন্দের পরিচালক। নতুন যাঁরা কাজ করছেন, বেশিরভাগের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি, তা নয়। তবে সৌকর্য তাঁদের মধ্যে অন্যতম। এর আগে ‘ভূতপরী’তেও আমাকে একটা দারুণ চরিত্র দিয়েছিলেন। তারপর দিলেন ‘ওসিডি’র চরিত্র।  যখন বললেন, তখনই ভাবলাম এমন চরিত্র তো করিনি। বাংলা ছবিতে খুব একটা দেখিওনি। ওসিডিতে আক্রান্ত অনেকেই। কিন্তু সেটা নিয়ে তেমন ছবি হয়নি। যাঁরা অভিনয় নির্ভর ছবি দেখতে চান, এই ছবিটা তাঁদের ভালো লাগবে। এই চরিত্রটা থেকে চার রকমের শেড পাওয়া যাবে।

শিশুদের উপর যে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন হয়, সেই সমস্যাটা কত গভীর বলে মনে করেন?

শৈশব খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেটাই জীবনের ভিত। যে শিশুর শৈশব একটু ডিজঅর্ডারে কাটে, বড় হয়ে সে একটু ডিস্টার্বড থাকে। বাংলা ছবিতে ‘মিটু’ নিয়ে কথা হয়, সমলিঙ্গ নিয়ে কথা হয়। কিন্তু কেন পিডোফিলিয়া নিয়ে কথা হয় না?

ঘনিষ্ঠ বৃত্ত থেকে অনেক সময় শিশুরা নির্যাতিত হয়। বাবা, মায়েদের এ বিষয়ে কতটা সচেতন হওয়া উচিত?

সত্যিই তাই। সাধারণত পারিবারিক পরিসরে থাকা মানুষদের থেকেই এই আঘাত আসে। শিশুদের ভিতরে যাঁরা যৌন আনন্দ খুঁজতে যান, তাঁদের এটা মানসিক ব্যাধি। আমি দেখেছি, বাবা মা বলছেন, চুপ থাক। বাচ্চারা বাড়িয়ে বলছে, এটাও বলতে দেখেছি। বাবা, মা হয়তো ভবিষ্যৎ ভেবে ধামাচাপা দিতে চান। কিন্তু ক্ষতি হয় শিশুটির। আমিও হয়তো ছোটবেলায় কোনো ঘটনা বুঝে উঠতে পারিনি। পরে মনে হয়েছে, আচ্ছা! বিষয়টা তো এরকম ছিল। এখন শিশুরা অনেক সচেতন। শিশুদের যে গুড টাচ, ব্যাড টাচ শেখানো হচ্ছে, তার কারণ বোধহয় এটাই। এই ছবিটা বাচ্চাদের সুরক্ষার কথা বলে। পরিবারের সকলকে নিয়ে দেখুন।

এই ছবিটা করতে গিয়ে কোনো দৃশ্যে কি আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিলেন?

প্রচুর দৃশ্যে একাত্মতা অনুভব করেছি। খুব ইনটেন্স ছবিটা। দিদিমার সঙ্গে কিছু দৃশ্য করতে গিয়ে আমার দিদিমার কথা মনে পড়েছে। আমি আজকে যে অভিনয় করছি, তার পিছনে সবথেকে বেশি অবদান আমার দিদিমার। ছোটবেলায় বুঝিনি। উনি আমাকে আবৃত্তি শিখিয়েছেন। হাত ধরে আর্ট ক্লাসে নিয়ে গিয়েছেন। প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন। এখন বুঝতে পারি উনি আমাকে কতটা তৈরি করে দিয়েছেন। আমার কতটা জুড়ে রয়েছেন। এই জার্নিটার মধ্যে দিয়ে যখন যাচ্ছিলাম, বুঝেছি, শিশুদের সঙ্গে যেসব ঘটনা ঘটে আমরা হয়তো ইগনোর করে যাই। কিন্তু ওদের কতটা নিরাপত্তা প্রয়োজন। আমার ওসিডি আছে কি না, সেটাও বুঝেছি ছবিটা করতে গিয়ে (হাসি)।

তাই! কীসে আপনার ওসিডি?

(হাসি) পরিচ্ছন্নতার ওসিডি আমার নেই। কিন্তু শট দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজেই লক্ষ করলাম, বারবার জিজ্ঞেস করছি, ঠিক হল তো? আবার দেব? তখন পরিচালক বলেন, জয়া এবার কিন্তু নষ্ট হয়ে যাবে। তখন বুঝি এটা আমার ওসিডি। অথবা কারো বাড়িতে গিয়েছি, একটা গুরুত্বপূর্ণ ডিল হচ্ছে। দেওয়ালে ঝোলানো একটা ছবির অ্যালাইনমেন্টটা ঠিক নেই। খুব হাত নিশপিশ করছে। আমি উঠে গিয়ে ঠিক করে দিয়ে আবার এসে বসেছি। এসব আরকি...।

ভারত-বাংলাদেশ ছবির আদানপ্রদানের কী পরিস্থিতি?

এখন তো নির্বাচনের আগে এই জিনিসগুলো একটু কম হচ্ছে। পরিস্থিতি একটু স্থিতিশীল হোক। তারপর নিশ্চয়ই হবে, আমি আশাবাদী।

স্বরলিপি ভট্টাচার্য

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ