সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ধর্মীয় বেড়াজাল ভেঙে এবার মোরসালিম শেখ, অসীম খান ও আমিরুল শেখের তৈরি লোহার রথে চড়বেন মহাপ্রভু জগন্নাথ। এত অল্প সময়ের মধ্যে কেউ রথ তৈরি করতে রাজি হননি। রথের কথা বলতেই এককথায় জগন্নাথদেবের রথ নির্মাণে রাজি হন মোরসালিম, অসীম ও আমিরুলরা। আড়াই দিনেই নিখুঁত লোহার রথ তৈরি করে সকলকে অবাক করে দেন তাঁরা। উদ্যোক্তারা বলেন, মহাপ্রভু যখন নিজের রথ মুসলিমদের হাতে তৈরি করে নিতে চেয়েছেন, তখন তো কোনও সমস্যা থাকতে পারেনা। ফরাক্কা ব্লকের ফিডার ক্যানেলের পশ্চিম পাড়ের বেওয়া ২ গ্রামপঞ্চায়েতের নিশিন্দ্রা ঠাকুরপাড়া। আগে এই গ্রামে রথযাত্রা পালিত হতো। বসতো মেলাও। বছর কয়েক আগে গ্রামে বন্ধ হয়ে যায় রথ উৎসব। গত বছর ফের তা শুরু হয়। তবে তা ছোট আকারে। গ্রামবাসীরা সবাই মিলে একটু বড়ো আকারে করার সিদ্ধান্ত নেন। এবার তাই লোহার রথে চড়বেন জগন্নাথ। এলাকার পাঁচটা গ্রিলের দোকানে রথ তৈরির জন্য যান উদ্যোক্তারা। কিন্তু এত অল্প সময়ে রথ গড়তে কেউই রাজি হননি। অবশেষে বেনিয়াগ্রামে একটি গ্রিলের দোকানে রথ তৈরির বরাত দেন। গ্রিলের দোকানের মালিক মোরসালিম, অসীম ও আমিরুল মাত্র আড়াই দিনের মধ্যেই গড়ে ফেলেন ছ’ফুট উচ্চতা ও আড়াই ফুট দৈর্ঘ্যের লোহার একটি রথ। তা গড়তে ৫৫ কিলো লোহা লেগেছে। তাঁরা বলেন, হিন্দু মুসলিম আমরা ভাই ভাই। আমাদের মধ্যে কোনও বিভেদ নেই। এই রথ দেখে যদি সকলের পছন্দ হয় তাহলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে। এ প্রসঙ্গে রথ গড়ার দায়িত্বে থাকা পেশায় স্কুল শিক্ষিকা তনুশ্রী মিশ্র বলেন, মহাপ্রভুর ইচ্ছায় অল্প সময়ে ওঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে নিখুঁত রথ তৈরি করেছেন।



