


পহেলগাঁও: গাড়ি যাওয়ার মতো রাস্তা নেই। ছবির মতো সুন্দর বৈসরণে যাওয়ার জন্য কার পার্কিং পয়েন্ট থেকে হাঁটাপথই একমাত্র ভরসা। সেই দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় পর্যটকদের জন্য রোজই হাজির থাকতেন এক ‘ঘোড়াওয়ালা’। তিনি ২৬ বছরের স্থানীয় যুবক সইদ আদিল হুসেন শাহ। ঘোড়ার পিঠে চড়িয়ে পর্যটকদের বৈসরণের উপত্যকা পর্যন্ত পৌঁছে দিতেন তিনি। কিন্তু কে জানত এমন নির্মম পরিণতি অপেক্ষা করে আছে তাঁর জন্য। পর্যটকদের বাঁচাতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সইদ। হামলাকারী এক জঙ্গির হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করেন। আর সেই ‘অপরাধে’ই সন্ত্রাসবাদীদের বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে যায় তাঁর দেহ। মঙ্গলবার পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলায় নিহতদের মধ্যে একমাত্র স্থানীয় বাসিন্দা সইদই।
বাড়িতে রয়েছেন বয়স্ক বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তান। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন সইদ। জঙ্গি হামলায় সন্তানকে হারিয়ে বিচারের দাবি তুলেছেন তাঁর বাবা-মা। নিহত এই যুবকের বাবা সইদ হায়দর শাহ বুধবার বলেন, রোজকার মতো গতকালও পহেলগাঁওয়ে কাজে গিয়েছিল ছেলে। বিকেল তিনটে নাগাদ খবর পেলাম, ওখানে জঙ্গি হামলা হয়েছে। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু ওর মোবাইল বন্ধ থাকায় কথা বলতে পারছিলাম না। পরে ৪টে ৪০ মিনিট নাগাদ ফোন চালু হলেও তা বেজে যাচ্ছিল। কেউ ধরছিল না। আমরা থানায় যাই। পরে পুলিস জানায় জঙ্গি হামলায় আমার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। হামলার নেপথ্যে যেই থাকুক না কেন, কঠোরতম শাস্তি চাই। সইদের দেহ এদিন তাঁর গ্রামে আসার পর শেষকৃত্যের সময় শোকস্তব্ধ মানুষের ঢল নামে। সমবেতভাবে দাবি ওঠে, ‘বিচার চাই’।