সংবাদদাতা, বজবজ: ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভাদুড়া তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি বুদ্ধ মণ্ডল খুনের ঘটনার মূল কারিগর মোশারফ মণ্ডল। ধৃতকে জেরা করে জানতে পেরেছে পুলিশ। বুদ্ধ নিখোঁজ হওয়ার পর চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন মোশারফ। ঘটনার আরও একজনের খোঁজ করছে পুলিশ।
ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কলাতলাহাটের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি পদে ছিলেন মোশারফ। তিনি জাহাঙ্গিরের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ঘোরাফেরা করতেন। অভিযোগ, ভাদুড়া, কলাতলাহাটসহ সংলগ্ন এলাকায় জাল দলিল তৈরি করে জমি বিক্রি, মাটির অবৈধ কারবার, বাজার-দোকান থেকে তোলা আদায়ের যাবতীয় টাকা তাঁর কাছে জমা হত। সেই সব টাকা মোশারফ পৌঁছে দিত জাহাঙ্গিরের কাছে। বুদ্ধর দায়িত্ব ছিল ভাদুড়া এলাকা থেকে তোলা আদায়ের। পুলিশের জেরায় মোশারফ স্বীকার করেছে, বুদ্ধ তোলা আদায়ের সেই বিপুল অঙ্কের টাকা জমা দেয়নি। এমনকি পালা বদলের পর সেই টাকা নিয়ে গা ঢাকা দেয়। অনেকদিন ধরেই তাঁকে খোঁজা হচ্ছিল। মোশারফরা জানতে পারে, কয়েক দিন আগে বুদ্ধ বাড়ি ফিরেছেন। কাজেও যোগ দিয়েছেন। মঙ্গলবার মোশারফ ও তাঁর ভাই মোটরবাইক নিয়ে বুদ্ধর কর্মস্থলে যায়। জরুরি বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য মোটরবাইকে তুলে কলাতলাহাটে নিয়ে যায়। পূর্ব পরিচিত বলেই বুদ্ধ বাধা দেয়নি। পুলিশ জেনেছে, কলাতলাহাটে একটি ঘরে বসে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেয় মোশারফ ও তাঁর সঙ্গীরা। কিন্তু বুদ্ধ জানিয়ে দেন, তাঁর কাছে কোন টাকা নেই। এরপর রেগে গিয়ে বুদ্ধকে মোশারফ বেধড়ক মারধর করেন। সেখানেই অচেতন হয়ে যান বুদ্ধ। দীর্ঘসময় পরেও জ্ঞান ফেরেনি। বুদ্ধর বুকে পেসমেকার বসানো ছিল। পুলিশের সন্দেহ, মারধরের জেরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বুদ্ধর। মোশারফ জেরায় স্বীকার করেছে, এই ঘটনায় তাঁরা ভয় পেয়ে যান। অনেক রাতে মোটরবাইকে করে বুদ্ধর দেহ নামখানার পাতিবুনিয়ায় ঝিলে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ বুধবার দেহ উদ্ধার করে। পরে জানা যায়, সেটি তৃণমূল নেতা বুদ্ধর।