


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বিবেচনাধীন। ভোট ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় আতঙ্ক বেড়েছে সেই সমস্ত ভোটারের। জেলায় এমন বহু ভোটার আছেন, যাঁরা জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নাম মৃত বলে বাদ দেওয়া হয়েছে। আগামী নির্বাচনে আদৌ তাঁরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে। তৃণমূলের চার বিধায়কের নামও বিবেচনাধীন। নওদা বিধানসভার বিধায়ক শাহিনা মমতাজ খান, জঙ্গিপুরের জাকির হোসেন, সাগরদিঘির বাইরন বিশ্বাসএবং জলঙ্গির আব্দুর রাজ্জাক বিবেচনাধীন। এদিকে সুপ্রিম নির্দেশে মুর্শিদাবাদ জেলায় বিবেচনাধীন ১১ লক্ষ ২১ হাজার ভোটারের নথি যাচাই শুরু হলেও এ যাবত কতজনের নথি যাচাই হল তা জানা যাচ্ছে না। এবার ভিন রাজ্যের একাধিক বিচারককে এনে দ্রুত কাজ এগনোর চেষ্টা চলছে। তবে তারপরেও আশঙ্কা কমছে না বিবেচনাধীন ভোটারদের।
নওদার তৃণমূল বিধায়ক শাহিনা মমতাজ খান বলেন, আমাকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সেখানে সমস্ত নথিপত্র দেওয়ার পরেও আমার নাম বিবেচনাধীন রয়েছে। আমার বিধানসভার বহু ভোটারেরই একই সমস্যা। নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় নাম উঠবে কি না, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে। তবে বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা আছে। আশা করছি বিচারকরা দ্রুত এই সমস্যার নিষ্পত্তি করবেন।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, প্রথমে দু’ দফায় মোট ২৮ জন বিচারক নিয়োগ হয়। কিন্তু তারপরেও সেভাবে কাজ এগয়নি। বিপুল সংখ্যক নথি বাকি রয়েছে। প্রতি ১০ মিনিটে একটি করে ভোটারের নথি ভেরিফাই হচ্ছিল। তখন ভিন রাজ্য থেকে বিচারক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। মুর্শিদাবাদ জেলাতেই আরও ৭০ জন বিচারক এই কাজ শুরু করেছেন। অর্থাৎ মোট ৯৮ জন বিচারক গত আটদিন ধরে নথি যাচাই করছেন। কত সংখ্যক ভোটারের নথি যাচাই সম্পন্ন হচ্ছে, সেই পরিসংখ্যান এখনও আমরা জানি না। সেটা সরাসরি কমিশনের কাছে যাচ্ছে।
প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, বিপুল সংখ্যক মানুষকে ভোটার তালিকার বাইরে রেখে কীভাবে নির্বাচন ঘোষণা হল? ভোট দেওয়া আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। কোনো মানুষকে সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা ঠিক নয়। গোটা রাজ্যে যে সমস্ত মানুষের নাম বিবেচনাধীন, তাঁদের নাম তালিকায় তুলেই ভোট করতে হবে।
বিজেপির রাজ্য কমিটির সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, রাজ্যের ভুয়ো এবং অবৈধ ভোটার বাছাই করার জন্য নির্বাচন কমিশনের এই এসআইআর প্রক্রিয়া। প্রতিটি জেলায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বিবেচনাধীন আছে। সুপ্রিম কোর্টে তো রাজ্য সরকারই গিয়েছিল। তাদের আবেদনের ভিত্তিতেই বিচারকরা এখন রিভিউ করছেন। আশা করছি শুধুমাত্র যোগ্য ভোটাররাই এবার ভোট দিতে পারবেন।