নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩০০। এবছর ছ’মাসের মধ্যেই মশাবাহিত রোগের এই পরিসংখ্যান যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে মনে করছে স্বাস্থ্যদপ্তর। প্রতি বছর মুর্শিদাবাদ জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়। গত বছর বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছিল। তবে এবছর ডেঙ্গুর থেকে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব চিন্তা বাড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, জানুয়ারি থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১৫৫জন। সেখানে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ৩০০জন।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তাদের দাবি, এখনই আশঙ্কার কিছু নেই। ডেঙ্গু খুব একটা না হলেও, ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি।
জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ৫জুন পর্যন্ত আমাদের জেলায় ২৯৭জন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিবছরই মে এবং জুন মাসে ম্যালেরিয়ার প্রভাব বাড়ে। বর্ষা শুরু হলে, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকে। আমরা ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া রোধের জন্য একাধিক পদক্ষেপ ও কর্মসূচি নিয়েছি। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও বেশ কয়েকজন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি আছেন। মেডিক্যালের মেডিসিন বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা গত তিন সপ্তাহে সবথেকে বেড়েছে। অধিকাংশ রোগীরই গায়ে ধুম জ্বর এবং মাঝে মধ্যেই বমি হচ্ছে। এই উপসর্গ নিয়ে আমাদের কাছে আসছেন।
তবে মানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা দরকার বলেই দাবি চিকিৎসকদের। জ্বর হলে প্রতিটি এলাকায় যে আশা কর্মীরা ঘোরেন, তাঁদের জানাতে হবে। কারণ, প্রতিটি আশাকর্মীর কাছে স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে দেওয়া ম্যালেরিয়া পরীক্ষার কিট রয়েছে। কিটের মাধ্যমে রোগীকে পরীক্ষা করে দ্রুত রিপোর্ট জানা সম্ভব। ম্যালেরিয়া ধরা পড়লে তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে দ্রুত রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার শরীরেই বাসা বাঁধতে পছন্দ করে এককোষী জীব বা প্রোটোজোয়া প্লাজমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স ও প্লাজ়মোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম। এরমধ্যে ফ্যালসিপেরামই হল বেশি বিপজ্জনক। এই পরজীবীর কারণেই ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়ায় প্রতি বছর বহু মানুষের মৃত্যু হয়। কাজেই ফ্যালসিপেরামই হল আসল খলনায়ক।
অধিকাংশ চিকিৎসকদের দাবি, সাধারণত দু’ধরনের ম্যালেরিয়া দেখা যায়। সহজে বলতে গেলে, জটিল ম্যালেরিয়া এবং গুরুতর বা মারাত্মক ম্যালেরিয়া। জটিল ম্যালেরিয়ার লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে ঠান্ডা লাগা বা কাঁপুনি সহ ঠান্ডার অনুভূতি। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রচণ্ড মাথাব্যথা হবে। সেইসঙ্গে জ্বর এবং বমি। এরপর শরীরে ঘাম হবে। ক্লান্তি অনুভব হবে। তারপরে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসবে রোগী। কখনও অল্পবয়সি ব্যক্তিদের মধ্যে খিঁচুনি হতে পারে। মারাত্মক বা গুরুতর ম্যালেরিয়ার লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে জ্বর এবং কাঁপুনি। এসময় রোগীর বেশ ঠান্ডা লাগবে। শরীর দুর্বল হবে। সেইসঙ্গে শ্বাসকষ্ট এবং একাধিকবার খিঁচুনি আসবে। শরীরে রক্ত শূন্যতার লক্ষণ দেখা দেবে। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে কর্মহীনতা লক্ষ্য করা যাবে।