সংবাদদাতা, লালবাগঃ অন্নপূর্ণা ভান্ডারের বঞ্চিত উপভোক্তাদের থেকে নতুন করে তথ্য সংগ্রহ শুরু করল মুর্শিদাবাদ পুরসভা। এই মর্মে সোমবার পুরসভা থেকে ফর্ম বিলি শুরু হয়েছে। ফর্ম পেতে এদিন সকাল থেকে বঞ্চিত উপভোক্তারা পুরসভায় ভিড় জমান। পুরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনকারী মহিলাদের মধ্যে অনেকেই টাকা পাচ্ছেন। তবে আবেদনপত্রে কিছু তথ্যগত ত্রুটি বা ভুল-ভ্রান্তির কারণে একটা অংশের উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। সেই কারণে নতুন করে তথ্য সংগ্রহের জন্য পুরসভা থেকে ফর্ম দেওয়া শুরু হয়েছে। আবেদনপত্রে উল্লিখিত তথ্য লিখে জমা দিতে হবে। বঞ্চিত উপভোক্তাদের প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতেই পুরসভার পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পাওয়ার অভিযোগে গত শুক্রবার মুর্শিদাবাদ পুরসভায় এসে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন শতাধিক মহিলা। অভিযোগ ছিল, সমস্ত কাগজপত্র ও তথ্য ঠিক থাকা সত্ত্বেও তাঁদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা ঢোকেনি। সেই দিন বিক্ষোভের পর পুর কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তাঁরা বাড়ি ফিরে যান। সোমবার ফের মুর্শিদাবাদ পুরসভায় ভিড় জমায়েত হন মহিলারা। মুর্শিদাবাদ পুরসভার «বাংলা সহায়তা কেন্দ্রে» খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাকা না পাওয়া উপভোক্তাদের একটি নির্দিষ্ট ফর্ম দেওয়া হচ্ছে। সেই ফর্মে পারিবারিক আইডি, আবেদন নম্বর, এপিক নম্বর,ভোটার তালিকার পার্ট নম্বর ও সিরিয়াল নম্বর লিখে কাউন্টারে জমা দিতে বলা হচ্ছে। তবে উপভোক্তাদের অভিযোগ, তাঁরা ঠিক কী কারণে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাননি, সেই কারণ ফর্মে উল্লেখ করা হচ্ছে না। এক উপভোক্তার অভিযোগ, তাঁর স্বামী বেকার এবং পরিবারের কোনও নির্দিষ্ট আয় নেই। তা সত্ত্বেও তিনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন না। অথচ আশপাশে সরকারী দপ্তর এবং পুরসভার কর্মীর বাড়ির মহিলারা এই সুবিধা পাচ্ছেন। নতুন করে ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়ার পর এবার টাকা মিলবে কি না, তা নিয়েই সংশয়ে রয়েছেন উপভোক্তারা। তাঁদের দাবি, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধ করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক। কারা টাকা পাচ্ছেন না, তার নির্দিষ্ট কারণ জানানো হোক এবং যোগ্য উপভোক্তাদের দ্রুত তাঁদের প্রাপ্য অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। এদিকে অন্নপূর্ণার টাকা না ঢোকায় সোমবার রানিনগর ১ ব্লকের বিডিও সৈকত বিশ্বাসের ঘরের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দিতে গিয়ে ময়দানে নামতে হয় পুলিশকে। মিনিট কুড়ি বিক্ষোভ চলার পর অবশেষে তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয় ইসলামপুর থানার পুলিশ। বিক্ষোভকারী এক মহিলা রাকিবা বিবি বলেন, আমি খুব গরিব। নলবাটায় আমার বাড়ি। আমার অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢোকেনি। অনেকের ঢুকলেও আমার কেন ঢোকেনি বুঝতে পারছি না। বিডিও›র কাছে জবাব চাইতেই এসেছি। কিন্তু কেউ কিছু বলছে না।