সংবাদদাতা, বহরমপুর: বাড়িতে মিনি স্টোরে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে মোটা লাভের মুখ দেখলেন চাষিরা। এতদিন সরকারি ভর্তুকি পেয়েও বহু চাষি পেঁয়াজ সংরক্ষণে এগিয়ে আসেননি। এবারের লাভের অঙ্ক সেই চাষিদের বাড়িতে মিনি স্টোর তৈরিতে আগ্রহ বাড়াবে বলেই জেলা উদ্যান পালন দপ্তরের কর্তাদের ধারণা। যাঁদের বাড়িতে ইতিমধ্যেই মিনি স্টোর রয়েছে তাঁদের দাবি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকলে এবার পেঁয়াজ চাষে লাভের মুখ দেখা যেত না। কারণ পেঁয়াজ তোলার সময় বাজারে দাম ২-৩ টাকা কেজিতে নেমে এসেছিল। তাতেও পাইকারি ব্যবসায়ীদের গরজ ছিল না। মিনি স্টোর চাষিদের বাঁচিয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলায় নওদা, হরিহরপাড়া, বেলডাঙা সহ একাধিক ব্লকে পেঁয়াজ চাষ হয়। জেলায় প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে সুখসাগর প্রজাতির পেঁয়াজ চাষ হয়। এবার পেঁয়াজের ফলন সর্বকালের সেরা হয়েছে বলেই চাষিদের দাবি। প্রচুর পেঁয়াজ উৎপাদন হলেও জেলায় এখনও পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমঘর গড়ে ওঠেনি। ফলে চাষিদের ২-৫ টাকা কেজি দরেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয়েছে। ফলে ভালো উৎপাদন সত্ত্বেও অনেকেই লাভের মুখ দেখতে পারেননি। যাঁরা মিনি স্টোরের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে পেরেছিলেন তাঁরাই লাভবান হয়েছেন। নওদার পেঁয়াজ চাষি সুজয় মণ্ডল বলে, ১২০ কুইন্টাল সংরক্ষণ করতে পেরেছিলাম। সেই পেঁয়াজ ২৪-২৮ টাকা কেজিতে বিক্রি করলাম। পেঁয়াজ চাষে এবার প্রচুর লাভ হয়েছে। সরকারি ভর্তুকি ঘোষণার শুরুতেই সুজয়বাবু বাড়িতে মিনি স্টোর করেছিলেন। তখন খরচা হয়েছিল প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। সুজয়বাবু ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তুকি পেয়েছিলেন।
উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদ জেলায় এখনও পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচশো চাষি সরকারি সাহায্যে বাড়িতে মিনি স্টোর তৈরি করেছেন। এবার উদ্যানপালন দপ্তরের মিনি স্টোর তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১৪০টি। ২০২৩-২৪ সালের পর থেকে মিনি স্টোরের খরচা এবং ভর্তুকির পরিমাণ দুইই বেড়েছে। এখন স্টোর করতে ১ লক্ষ টাকা ভর্তুকি মিলছে। পাশাপাশি সরকার পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বড় হিমঘরের কথাও ভাবছে। হরিহরপাড়ার চাষি কুতুবুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ৩০ বাই ২০ ফুট আয়তনের মিনি স্টোরে ১০ টন পেঁয়াজ ভালোভাবেই রাখা যায়। এবার ফলন ভালো হওয়ায় ওই ঘরে গাদাগাদি করে ১২০ কুইন্টাল রেখেছিলাম। ভালো লাভ হয়েছে। চাষিদের দাবি, ওঠার মুখে পেঁয়াজের ১০ টাকা কেজি দাম থাকলে সংরক্ষণে না গিয়ে বিক্রি করে দেওয়াই ভালো। এবার দাম একেবারেই তলানিতে ছিল। কালীতলার পেঁয়াজ চাষি রতন মণ্ডল বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বারবার মিনি স্টোর তৈরির অনুরোধ করেছিল। সেই অনুরোধে সাড়া না দিয়ে আজ ভুল বুঝতে পারছি। এবার নাম লেখাব। নিজস্ব চিত্র