Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাম বাদের তালিকায় শীর্ষে মুর্শিদাবাদ জেলা, ১১ লক্ষ বিচারাধীনের মধ্যে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার বাদ

বিচারাধীন ভোটারের নথি যাচাইয়ের পর রাজ্যের মধ্যে সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়ল মুর্শিদাবাদে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচারাধীন থাকা ভোটারের সংখ্যা সব থেকে বেশি ছিল মুর্শিদাবাদ জেলাতেই।

নাম বাদের তালিকায় শীর্ষে মুর্শিদাবাদ জেলা, ১১ লক্ষ বিচারাধীনের মধ্যে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার বাদ
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

অভিষেক পাল, বহরমপুর: বিচারাধীন ভোটারের নথি যাচাইয়ের পর রাজ্যের মধ্যে সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়ল মুর্শিদাবাদে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচারাধীন থাকা ভোটারের সংখ্যা সব থেকে বেশি ছিল মুর্শিদাবাদ জেলাতেই। সংখ্যাটা ১১ লক্ষ ১ হাজার ১৪৫ জন। জুডিশিয়াল অফিসাররা নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শেষে এই জেলায় অবৈধ ভোটার হিসাবে চিহ্নিত করেছেন ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনকে। বাকি ৬ লক্ষ ৩৩ হাজার ৬৭১ জন ভোটারের নথি বৈধ বলে দাবি করেছেন। এই সংখ্যা প্রকাশ পেতেই নবাবি মুলুকে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার সকালেই বহরমপুরের ট্রাইবুনালে হাজির হয় হাজার দশেক মানুষ। সকলে ভোটার তালিকায় নাম তুলে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য আবেদন শুরু করেছেন। 

Advertisement

হরিহরপাড়ার বিশেষ শারীরিক চাহিদা সম্পন্ন এক ব্যক্তি এদিন ট্রাইবুনালের লাইনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, সকাল ৯টা থেকে এসে লাইন দিয়েছি। ২টো বাজলেও আমার কাজ মেটেনি। কেন নাম বাদ দিল বুঝতে পারছি না। এর আগে দু’বার বিডিও অফিসে ফর্ম জমা দিয়েছিলাম তাতেও কাজ হয়নি। 
দৌলতাবাদের রজিনা বিবি বলেন, আমরা পাঁচ ভাই-বোন। হঠাৎ করে এখন কমিশন বলছে, আমরা নাকি ছ’ভাই-বোন ছিলাম। তাই আমাদের তিনজনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা কেন কীভাবে হল আমরা জানি না। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে এই গরমের মধ্যে খুব ভোগান্তি হচ্ছে। 
তবে কোন বিধানসভায় কত জন বিচারারধীন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেল, তা স্পষ্ট করেনি জেলা প্রশাসন। মুর্শিদাবাদ জেলার ২২টি বিধানসভার মধ্যে রঘুনাথগঞ্জ, ভগবানগোলা, সামশেরগঞ্জ, সূতি এবং রানিনগর বিধানসভায় বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল বেশি। রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, যে সব কেন্দ্র তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি-সেখানে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা সর্বাধিক। বিচারকরা তথ্য যাচাই যখন শুরু করেছিলেন, তখন সামশেরগঞ্জ বিধানসভায় ১ লক্ষ ১৯ হাজার মানুষের ভোটের নথি যাচাই করা শুরু হয়েছিল। সূতি বিধানসভায় ১ লক্ষ ১১ হাজারের বেশি ভোটারের নথি, রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভায় ১ লক্ষ ৯ হাজার, ভগবানগোলা বিধানসভায় ৯৮ হাজারের বেশি ভোটার বিচারাধীন ছিল। সীমান্তবর্তী রানিনগর বিধানসভায় ১ লক্ষ ১ হাজার ভোটার বিচারধীন ছিলেন। জঙ্গিপুর বিধানসভায় ৮৬ হাজার ও লালগোলা বিধানসভায় ৮৭ হাজারের বেশি ভোটার বিচারাধীন ছিলেন। সংখ্যালঘু ভোট বাতিলের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিকভাবে কমিশনকে ব্যবহারের আঙুল তুলছে তৃণমূল। 
বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, বিজেপির নির্দেশে কমিশন কাজ করছে। স্বাভাবিকভাবে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলায় তারা সব থেকে বেশি নাম বাদ দিয়েছে। আমরা ট্রাইবুনালে যাচ্ছি। যে সমস্ত মানুষ ট্রাইবুনালে আবেদন করছে তাদের সহযোগিতা করছি। ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াই আমাদের। 
বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী বলেন, এসআইআরের ড্রাফ্ট তালিকায় মুর্শিদাবাদের রাজ্যের মধ্যে সর্বাধিক ছিল। সাপ্লিমেন্টারি তালিকার পরেও মুর্শিদাবাদ সর্বাধিক। আমি দৌলতাবাদ গুরুদাসপুর বিভিন্ন এলাকায় প্রচারে গিয়েছিলাম। আমাকে বয়স্ক মানুষজন বলছেন, ভোট কাকে দেব সেটা তো পরের ব্যাপার। আমাদের তো ভোট দেওয়ার অধিকার নেই। আমি আশীর্বাদ করার জন্য মানুষকে যখন বলছি, তারা বলছে আমার তো নামই নেই। কী করে ভোট দেব? মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় বেশি নাম বাদ গিয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ