


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় ৯৮ জন বিচারক এসআইআরের বিচারাধীন ভোটারদের নাম রিভিউ করবেন। বর্তমানে ২৮ জন বিচারক লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির ১১ লক্ষ ভোটারের নথি রিভিউয়ের কাজে রয়েছেন। আরও ৭০জন বিচারক এই কাজে আসছেন। কিন্তু রাতারাতি এতজন বিচারকের থাকার বন্দোবস্ত করা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। বিচারকদের মধ্যে কয়েকজন মহিলাও রয়েছেন। তাঁদের সুরক্ষা ও থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তারই মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলার তিনজন অতিরিক্ত জেলাশাসক সহ বেশ কয়েকজন মহকুমা শাসক, বিডিও এবং অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলি করা হয়েছে। এই আবহে ভিনরাজ্যের নতুন বিচারকদের ভরণপোষণের দায়িত্ব সামাল দিতে নাজেহাল হচ্ছে জেলা প্রশাসন।
মুর্শিদাবাদ জেলায় ১১ লক্ষ ২১ হাজার ভোটারের নথির পুনরায় রিভিউ শুরু হয়েছে। গত সোমবার থেকে নথির যাচাই শুরু হলেও সেভাবে পরিসংখ্যান মিলছে না। এবার ভিনরাজ্যের একাধিক বিচারকদের এনে দ্রুত কাজ এগনোর চেষ্টা চলবে। তবে, তারপরেও আশঙ্কা কমছে না বিচারাধীন থাকা ভোটারদের। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বিচারকরা নথি ভেরিফাই শুরু করতেই দু’দফাতে মোট ২৮জন বিচারক নিয়োগ হয়। কিন্তু, তারপরেও বিপুল সংখ্যক নথি বাকি রয়েছে। প্রতি ১০ মিনিটে একটি করে ভোটারের নথি ভেরিফাই হচ্ছে। ভিনরাজ্য থেকে বিচারক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। মুর্শিদাবাদ জেলাতেই আরও ৭০জন বিচারক এই কাজ শুরু করবেন। অর্থাৎ মোট ৯৮জন বিচারক সোমবার থেকে নথি যাচাই করবেন। কত সংখ্যক ভোটারের নথি যাচাই সম্পন্ন হচ্ছে, সেই পরিসংখ্যান এখন আমরাও জানতে পারছি না। সেটা সরাসরি কমিশনের কাছে যাচ্ছে।
এদিকে, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পরেও জেলার এক নামী চিকিৎসকের নাম ভোটার তালিকায় ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ এসেছে। সরকারি চিকিৎসক হওয়ার পরও নাম বাদ যাওয়া নিয়ে তিনি আশঙ্কায় রয়েছেন। মুর্শিদাবাদ জেলায় দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন আশারুল হোসেন। বর্তমানে তিনি কোচবিহার মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিভাগের চিকিৎসক। তিনি বলেন, আমি নদীয়ার বেথুয়াডহরির ভোটার। বাড়ির সকলের নাম ঠিক এসেছে। আমি পাসপোর্ট দেওয়ার পরেও আমার নাম বিচারাধীন এসেছে। আমার পোস্টিং হবে হয়তো কিছুদিন পর। তখন ডকুমেন্টস হিসাবে ভোটার কার্ড দিতে হবে। জানি না তখনো অ্যাপ্রুভ হবে কি না। ইচ্ছা করে আমাকে বিচারাধীন করা হয়েছে।
একই সমস্যায় পড়েছেন বহরমপুরের উত্তরপাড়া মোড়ের ব্যবসায়ী সাইফুল হক। তিনি বলেন, আমার কার্ডে ‘শেখ’ ছিল। সেটা ‘হক’ হবে। বাকি সমস্ত নথিতে হক রয়েছে। ভোটার তালিকায় হিয়ারিংয়ের নোটিস পাওয়ার পর আমি ডকুমেন্টস হিসাবে পাসপোর্ট জমা দিয়েছিলাম। তারপরেও আমার নাম বিবেচনাধীন রয়েছে। কমিশন কোনো কাজ করেনি। এত কাগজ দিয়েছিলাম, কোনো ভেরিফাই হয়নি।