নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: শহরে দু’জন ডেঙ্গু আক্রান্তের সন্ধান মিলতেই আরও তৎপর হল কৃষ্ণনগর পুরসভা। আক্রান্তের সংখ্যা যাতে আর না বাড়ে, সেই জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এবং জল জমা রুখতে বিশেষ মাইক্রো প্ল্যান নেওয়া হচ্ছে। পুজো পর্যন্ত এই কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চালানো হবে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে সুপারভাইজারদের নিয়ে বিশেষ মাইক্রো প্ল্যান তৈরি হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন প্রতিটি এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট সংগ্রহ করা হবে। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করে পুরসভা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। কোথাও জমা জল, আবর্জনা রয়েছে কি না-তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন শুরু করেছেন কৃষ্ণনগর সদর মহকুমা শাসক তথা পুরসভার প্রশাসক মৌলি সান্যাল। বৃহস্পতিবার পুরসভার আধিকারিক, চিকিৎসক এবং ডেঙ্গু মোকাবিলার সঙ্গে যুক্ত সুপারভাইজারদের নিয়ে তিনি তিনটি ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে পরিচ্ছন্নতা এবং জমা জলের বিষয়ে খোঁজ নেন।
ঘূর্ণি এলাকা ও ১৪নম্বর ওয়ার্ডে সম্প্রতি দু’জনের ডেঙ্গু ধরা পড়েছিল। বৃহস্পতিবার আক্রান্তদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন প্রশাসক। পুরসভার দাবি, দু’জনেই এখন সুস্থ রয়েছেন। ঘূর্ণির আক্রান্ত ব্যক্তি বাইরে থাকাকালীন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আক্রান্ত ব্যক্তিও ডেঙ্গু ধরা পড়ার আগে শহরের বাইরে গিয়েছিলেন। ঘূর্ণির মৃৎশিল্পীদের পাড়াতেও এদিন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন প্রশাসক। কোথাও জল জমে রয়েছে কি না, তা দেখার পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। বাড়ির আশপাশে জল জমতে না দেওয়া ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে বাসিন্দাদের সচেতন করা হয়।
প্রশাসক বলেন, প্রতিবছরই এসময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকে। তাই আমরা বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করছি। ডেঙ্গুর সুপারভাইজার টিম, চিকিৎসক এবং পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে কিছুদিন আগে একজনের ডেঙ্গু ধরা পড়েছিল। ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি। আক্রান্ত ব্যক্তি এখন ভালো আছেন। তাঁকে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। পুরসভার তরফে প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে মাইক্রো প্ল্যানিং করা হচ্ছে।