সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: বেসরকারি প্যাথলজি সেন্টার ও নার্সিংহোমের দাপট অস্বাভাবিক। তাই শিলিগুড়িতে নিজেদের স্বাস্থ্য বিভাগের ‘স্বাস্থ্য’ চাঙ্গা করতে উদ্যোগী পুরসভা। তারা আরও একটি ৩০ বেডের হাসপাতাল, ১২টি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। এজন্য চিকিৎসক ও নার্স মিলিয়ে আরও ৯৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। বিনামূল্যে নাগরিকদের স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করতেই এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য দুলাল দত্ত বলেন, মেয়র গৌতম দেবের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগের পরিকাঠামো চাঙ্গা করার কাজ চলছে। এবার একটি হাসপাতাল সহ ১৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে শহরের স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও উন্নত হবে।
শিলিগুড়িতে বেসরকারি প্যাথলজিক্যাল সেন্টারের দাপট দীর্ঘদিনের। রক্ত পরীক্ষা সহ বিভিন্ন ধরনের টেস্ট করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি অস্বাভাবিক টাকা নেয় বলে অভিযোগ। সেই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠছে নার্সিংহোম। সেগুলিতেও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা হয়। এমন প্রেক্ষাপটে পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের পরিকাঠামো চাঙ্গা করার দাবি বহুদিনের। সেই মতো পুরসভা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিকাঠামো চাঙ্গা করা হচ্ছে।
পুরসভা সূত্রে খবর, বর্তমানে শহরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংখ্যা ৩০টি। যারমধ্যে একটি ২৫ বেডের মাতৃ সদন হাসপাতাল ও ১১টি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ১৮টি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র। ইতিমধ্যে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র-৯ এবং ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের চম্পাসারিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র-৭ এ এক্স-রে মেশিন বসানো হয়েছে।
এবার আরও একগুচ্ছ স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ বলেন, ২ নম্বর ওয়ার্ডে নতুন প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির কাজ চলছে। শীঘ্রই তা শেষ হবে। ২৭, ৩৬, ৪২ ও ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে তৈরি হবে সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র। আরও সাতটি অনুমোদিত সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক চললে সেগুলির নির্মাণ কাজও এবার শুরু হবে। ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে সমন্বিত সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরি হবে।
মাতৃসদনের বিপরীতে হবে ৩০ বেডের হাসপাতাল। প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হওয়ার পর নাগরিকদের ব্যাপক সুবিধা হবে। সেগুলিতে প্রাথমিক চিকিৎসা করানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের টেস্ট বিনামূল্যে করাতে পারবেন।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীও নিয়োগ করা হচ্ছে। গত ৩০ জানুয়ারি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরীক্ষা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ বলেন, ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির জন্য ছ’জন পূর্ণ সময়ের এবং চারজন আংশিক সময়ের মেডিকেল অফিসার নিয়োগ করা হয়। অর্থাৎ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১০ জন মেডিকেল অফিসার, ন’জন স্টাফ নার্স এবং একজন এএনএম কাজ করছেন। শীঘ্রই ১৯ জন স্টাফ নার্স ও ২৬ জন এএনএম নিয়োগ করা হবে। এরবাইরে ১৫টি এমও, ২১টি স্টাফ নার্স ও ১৬টি কমিউনিটি হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগের পরীক্ষা হয়েছে।