Bartaman Logo
১২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গৃহস্থের জমি দখল করে পুরসভার পার্ক

গৃহস্থের রায়ত জমি। সেই জমি দখল করে পার্ক তৈরির অভিযোগ কামারহাটি পুরসভার বিরুদ্ধে। জমিj মালিকের অভিযোগ, গায়ের জোরে কাউন্সিলার ও তাঁর দলবল পার্ক তৈরি করেছে।

গৃহস্থের জমি দখল করে পুরসভার পার্ক
  • ২৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: গৃহস্থের রায়ত জমি। সেই জমি দখল করে পার্ক তৈরির অভিযোগ কামারহাটি পুরসভার বিরুদ্ধে। জমিj মালিকের অভিযোগ, গায়ের জোরে কাউন্সিলার ও তাঁর দলবল পার্ক তৈরি করেছে। দক্ষিণেশ্বর থানায় অভিযোগ জাননো হয়েছিল কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। সরকার বদলের পর তাঁরা জমিটি ফেরত পাওয়ার আশা করছেন। পুর কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি জানিয়েছেন। কামারহাটির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনায় ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। 

Advertisement

কামারহাটি পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শ্যামলী চন্দ্র। তাঁর পরিবার ওই ওয়ার্ডের ২৮ নম্বর গোপাল মল্লিক রোডে একটি জমি কেনেন। কয়েকবছর আগে তাঁরা দেখতে পান তাঁদের জমিতে পুরসভা পার্ক তৈরি করছে। তাঁরা আকাশ থেকে পড়েন। কামারহাটি পুরসভা ও দক্ষিণেশ্বর থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। উল্টে গায়ের জোরে জমিতে পার্ক তৈরি করে দেওয়া হয়। বিষয়টির প্রতিবাদ জানানোয় তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। কাউন্সিলার ও তাঁর দলবলের হুমকিতে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় চন্দ্র পরিবার। কয়েকবছর আগে ঘটা করে ওই পার্কের উদ্বোধন হয়। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে ঘাসের জঙ্গল তৈরি হয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পর নিজেদের জমি ফেরত পাওয়ার আশায় রয়েছেন শ্যামলীদেবী ও তাঁর পরিবার। শ্যামলীদেবী বলেন, ‘ওই সময় আমরা হাতেপায়ে ধরে জমি ছাড়ার অনুরোধ করেছি। জমির কাগজপত্র দেখিয়ে জানিয়েছিলাম, নগদ টাকা দিয়ে জমিটি কিনেছি। কিন্তু ওরা বলে ছিল জমি নাকি আমাদের নয়। থানা ও পুরসভাতেও গিয়েছিলাম। কোনো লাভ হয়নি। গায়ের জোরে জমি দখল করে পার্ক করে দেওয়া হয়। এতদিন আতঙ্কে মুখ বন্ধ করেছিলাম। এখন সরকার বদল হয়েছে। তাই আমি আমার বেদখল হওয়া জমি ফেরত নিতে উদ্যোগী হয়েছি।’ কাউন্সিলার মায়া দাস বলেন, ‘ওই পার্ক তৈরির সময় আমি কাউন্সিলার ছিলাম না। তবে আমি শুনেছি কারও জমি দখল করে পার্ক হয়নি। পার্কের উদ্বোধনে বিধায়ক মদন মিত্র উপস্থিত ছিলেন। এখন তো ওই পার্ক পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।’ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা বলেন, ‘অন্যের জমিতে পুরসভার পার্ক কিভাবে হতে পারে সেটাই বড় প্রশ্ন। অভিযোগ যেহেতু উঠেছে তাই জমির মালিকানা খতিয়ে দেখা হবে। কোনও অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না।’ বিজেপি নেতা মৃণাল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘জোর করে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখল, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট সারা রাজ্যে তৃণমূল চালিয়েছে। কামারহাটিও ব্যতিক্রম নয়। এখন পরিবর্তিত জমানা। নিশ্চিতভাবে ঘটনার তদন্ত হবে। প্রকৃত জমি মালিকের কাছেই জমির দখল থাকবে।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ