পিরামিডে নয়, মাঝ সমুদ্রে নৌকায় পাওয়া গিয়েছিল মমি! কীভাবে ঘটল এই ঘটনা, লিখেছেন সায়নদীপ ঘোষ
পিরামিডে নয়, মাঝ সমুদ্রে নৌকায় পাওয়া গিয়েছিল মমি! কীভাবে ঘটল এই ঘটনা, লিখেছেন সায়নদীপ ঘোষ
দক্ষিণ ফিলিপিন্স। উপকূল থেকে ৬০ মাইল দূরে ভাসছে একটি সুবিশাল ইয়ট। ভেঙে পড়া সেই নৌকার মধ্যে ছিল আস্ত একটি মমি। মিশরের কোনও পিরামিড থেকে সংগ্রহ করা নয়। ভাসতে থাকা ইয়টে দেখা গেল এই ভয়াবহ দৃশ্য। ছোট বন্ধুরা, ন’বছর আগে এমনই হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী ছিলেন একদল মৎস্যজীবী।
অন্যান্য দিনের মতোই সমুদ্রে মাছ ধরছিলেন ক্রিস্টফার রিভাস। সঙ্গে ছিলেন বেশ কয়েকজন সহকর্মী। ফেরার পথে হঠাৎ একটি ভাঙা ইয়ট দেখতে পেলেন ক্রিস্টফার। বুঝতে পারলেন, বড় কোনও দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে নৌকাটি। ঠিক করলেন, কাছে গিয়ে দেখবেন বিষয়টা কী। ইয়টে উঠতেই রীতিমতো ভয় পেয়ে যান ক্রিস্টফার ও তাঁর সঙ্গীরা। ভিতরে টেবিলের উপর মাথা গুঁজে পড়ে রয়েছে একটি মমি। তাও মাঝ সমুদ্রে। কাছে একটি রেডিও ট্রান্সমিটার। সঙ্গে ছিল প্রচুর ছবি আর কিছু নথিপত্র। সেখান থেকেই মৃতদেহের পরিচয় মেলে। নাম ম্যানফ্রেড ফ্রিৎজ বাজোরাট। জার্মান নাবিক। প্রায় একবছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন। অবশেষে মমি হয়ে দেখা দিলেন। হঠাৎ মাঝ সমুদ্রে এমন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হলেন কীভাবে? ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজোরাটের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। সম্ভবত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। তারপর থেকে টেবিলের উপরেই পড়ে ছিল মৃতদেহ। তিনি মমিতে পরিণত হলেন কীভাবে? আসলে ফিলিপিন্সের উপকূলবর্তী অঞ্চলে বাতাস বেশ খানিকটা উষ্ণ থাকে। জোরে হাওয়া দেয়। সেই হাওয়ার সঙ্গে মিশে থাকে বেশকিছু লবণাক্ত বস্তু। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে সেগুলি মৃতদেহের উপর মুহূর্তের মধ্যে বিক্রিয়া ঘটাতে পারে। সেই বিক্রিয়ার জেরে মৃত্যুর সাতদিনের মধ্যে শরীরের চামড়া মোটা ও হলদে হয়ে উঠেছিল। দেখলে মনে হবে, ঠিক যেন একটা মমি!
সুদূর জার্মানি থেকে ফিলিপিন্সের সমুদ্রে এলেন কীভাবে বাজোরাট? সেই কাহিনি আর কোনওদিন জানা যাবে না। তবে বাজোরাটের জীবন ছিল রহস্যে ঘেরা। ১৯৯৬ সাল থেকে স্ত্রী ক্লডিয়ার সঙ্গে এই ইয়টে চেপেই দেশ-বিদেশে ঘুরেছেন ম্যানফ্রেড। ২০১০ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ক্লডিয়ার মৃত্যু হয়। এরপর একাই প্রশান্ত মহাসাগরে অভিযান চালাতেন এই জার্মান নাবিক। মনে করা হয়, মধ্য ইউরোপের হাড়কাঁপানো শীত থেকে বাঁচতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে শেষবার ফেসবুকের এক বন্ধুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা পাঠিয়েছিলেন। তারপর থেকে বেপাত্তা। জীবনের মতো মৃত্যুকেও রহস্য রেখে চলে গেলেন বাজোরাট। বিশেষজ্ঞরা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তারপরেও কোথাও যেন রহস্য থেকেই যাচ্ছে। এটাই হয়তো প্রকৃত নাবিকের জীবন। সমুদ্রের মতো গভীর যার চরিত্র। পরতে পরতে অনিশ্চয়তা।