নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: বারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে শুরু হয়েছে তাণ্ডব। মঙ্গলবার সকালে টিটাগড়ে জেলা তৃণমূলের অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ভেঙে লাগানো হয়েছে নরেন্দ্র মোদির ছবি। বিজেপির যুব মোর্চা সভাপতি বিশাল জয়সওয়াল বলেন, এই পার্টি অফিস থাকার মানে হয় না। এখান থেকে ষড়যন্ত্র হত। তাই আমরা ভেঙে দিলাম।
দুপুরে হামলা হয়েছে বারাকপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার নওশাদ আলমের অফিসে। তাঁর গাড়ি, অফিস ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি শুধু কাউন্সিলার নন, দমদম বারাকপুর সংখ্যালঘু সেলের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
ভাটপাড়া পুরসভার কাউন্সিলার সমর ঘটকের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, রাতে বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। ইট-পাটকেল মারা হয়েছে। হামলা হয়েছে উত্তর বারাকপুরের এক কাউন্সিলারের বাড়িতেও। ভাটপাড়া, জগদ্দলে বহু তৃণমূল নেতা কর্মীর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে সোমবার রাতে। বেশ কিছু পার্টি অফিস দখল করে নেওয়া হয়েছে। বিকেলে টিটাগড়ে বিটি রোডের উপরে রাজ চক্রবর্তীর এমএলএ অফিসে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিহত মণীশ শুক্লার বাবা চন্দ্রমণি শুক্লা বলেন, আমার ছেলে ক্লাবটি করেছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় এসে ক্লাব দখল করে। এখন এমএলএ অফিস হয়েছে। কোন কাজ হত না। নোংরামি হত। আমরা উদ্ধার করলাম। নৈহাটিতে সমস্ত তৃণমূল অফিস দখল করে নিয়েছে বিজেপি। রীতিমতো বারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে তাণ্ডব চলছে। তৃণমূলের প্রায় সবকটি অফিস দখল হয়ে গিয়েছে। বেশ কয়েকটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বহু বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব বরদাস্ত করা হবে না। বেশ কয়েকটি জায়গায় গোলমালের ঘটনা শুনে সেখানে যান বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং। তিনি জানিয়েছেন, পার্টি এটা অনুমোদন করে না। পুলিশকে বলা হয়েছে যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশকে বলা হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ টহলদাড়ি শুরু হয়েছে।