নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছিলেন জগমোহন ডালমিয়া। ২০০৬ সালে সিএবি সভাপতি পদে তিনি মাত্র ৫ ভোটে পরাস্ত করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্নেহধন্য পুলিশ কর্তা প্রসূন মুখার্জিকে। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। সিএবি’তে নতুন কমিটির পদাধিকারী নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। রাজ্যে পালাবদলের পর ছবিটা বদলাতে পারে। সব কিছু ঠিক থাকলে, ২৪ সেপ্টেম্বর হতে পারে সিএবি’র বার্ষিক সাধারণ সভা ও তিনটি পদে নির্বাচন। মেয়াদ পূর্ণ করায় সচিব, সহ সচিব ও অ্যাপেক্স কমিটির একটি পদ ফাঁকা হয়েছে। এই তিনটি পদে একাধিক মনোনয়ন জমা পড়লে হবে ভোটাভুটি। আপাতত চলছে অঙ্ক কষা।
গত কয়েক বছরে সিএবি কার্যত বিরোধী শূন্য হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু অভিষেক ডালমিয়াকে সামনে রেখে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েয়েছে। রাজ্যে বিজেপি সরকার আসায় অনেকে মনে করছেন, অভিষেক গোষ্ঠী বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। কারণ, বিজেপির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুবই ভালো। এখন দেখার, রাজ্য সরকার সরাসরি সিএবি’র নির্বাচনে হস্তক্ষপে করে কিনা। সাধারণ, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, রেলওয়েজ মিলিয়ে অনেক ভোট রয়েছে, যেগুলিতে সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা থেকে যায়। পাশাপাশি ময়দানের বেশ কিছু ক্লাবও ভোটাভুটি চাইছে। এখন প্রশ্ন হল, কে বাঁধবে বেড়ালের গলায় ঘণ্টা? উলটোদিকে রয়েছে সৌরভ গাঙ্গুলির মতো জনপ্রিয় মুখ। সিএবি সভাপতি হিসেবে তাঁর কোনো বিকল্প নেই। তবে সচিব, সহ সচিব এবং অ্যাপেক্স কমিটির সদস্য হওয়ার দাবি অনেকের। তাতেই অঙ্ক মেলাতে সমস্যায় পড়েছে শাসকগোষ্ঠী। কারণ, ভোট হবে ব্যালটে। তাই ক্রস ভোটিংয়ের সম্ভাবনা থেকে যায়। তবে সৌরভ ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, তাঁরা ভোটের কোনো ইঙ্গিত দেখছেন না। আলোচনার মাধ্যমেই প্রার্থী মনোনীত হবেন বলে মত একাংশের। তাঁদের আরও যুক্তি, রাজ্য সরকার নানা বিষয়ে চাপে রয়েছে। সিএবি নির্বাচনে মাথা গলিয়ে সমস্যা বাড়াতে চাইবে না। তবে বিরোধী শিবির ময়দানে নেমে পড়েছে। দফায় দফায় চলছে বৈঠক। বিরোধী শিবিরের সাফ যুক্তি, আমরা তো সৌরভের বিরোধিতা করছি না। কিন্তু সচিব, সহ-সচিব কিংবা অ্যাপেক্স কমিটির সদস্য যোগ্য ব্যক্তিকেই করা উচিত। সেটা ভোটাভুটির মাধ্যমে ঠিক হলেই ভালো।
আপাতত হাতে প্রায় মাস খানেক সময়। বার্ষিক সাধারণ সভার আগে সিএবি’তে উত্তাপ যে বাড়বে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।