নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া স্টেশন চত্বরকে ঢেলে সাজিয়ে মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব হিসাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ শুরু হল। সোমবার স্টেশন চত্বর ও সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখলেন পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই, জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া সহ রেল, কেএমডিএ, হাওড়া সিটি পুলিশ এবং হাওড়া পুরসভার পদস্থ কর্তারা। স্টেশনে প্রতিদিন জমায়েত হওয়া কয়েক লক্ষ যাত্রীর কথা মাথায় রেখে ধাপে ধাপে সাবওয়ে, শৌচাগার, নিকাশি, বাসস্ট্যান্ড সহ গোটা পরিবহণ পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, রেল, রাজ্য প্রশাসন, কেএমডিএ এবং হাওড়া পুরসভাকে নিয়ে তৈরি হবে জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স। এই টাস্ক ফোর্সই হাওড়া স্টেশন চত্বরের সামগ্রিক আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে স্টেশনের প্রতিটি সাবওয়ে পরিষ্কার করে আধুনিক মানের করে তোলার পাশাপাশি শৌচালয় ও নিকাশি ব্যবস্থার সংস্কার করা হবে। এরপর হাওড়া, কলকাতা ও দিঘা বাসস্ট্যান্ডের বেহাল পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো হবে। পরবর্তী পর্যায়ে অটো, অ্যাপ ক্যাব ও বাস পরিষেবাকে একই পরিবহণ ব্যবস্থার আওতায় এনে মাল্টিস্টোরিড পার্কিংয়ের পাশাপাশি শপিংমল ও মাল্টিপ্লেক্স তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে সেজে উঠবে স্টেশনের সামনের গঙ্গার পাড়।
রাজ্যে পালাবদলের পর হাওড়া স্টেশন চত্বরের ভোল বদলাতে স্টেশনের বাইরে অস্থায়ী দোকান ও ফুটপাতের হকার উচ্ছেদে অভিযান চালায় রেল ও রাজ্য। এরপর একাধিক দফায় বৈঠক করে আধুনিকীকরণের রূপরেখা তৈরি করা হয়। এদিন পরিদর্শনের পর উমেশ রাই বলেন, ‘গত ৫০ বছরে হাওড়া স্টেশন চত্বরের কোনো উন্নতি হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে আসা মানুষের কাছে স্টেশনের বেহাল ছবি প্রথমে ধরা পড়ে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে স্টেশন চত্বরের ভোল পাল্টে যাবে। ট্রেন থেকে নেমে বেরিয়ে এলে যেন মনে হবে মুম্বইয়ে এসেছেন।’
হাওড়া স্টেশনের আধুনিকীকরণের সঙ্গেই প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বমানের হাওড়া ফিশ মার্কেট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এর ডিপিআর ইতিমধ্যেই প্রস্তুত। বর্তমান বাজারের জায়গায় ছ’তলা ভবন তৈরি হবে। থাকবে মাছ প্যাকেজিং ও লিফটিংয়ের আধুনিক ব্যবস্থা, পৃথক পার্কিং, বাইরে থেকে আসা ব্যবসায়ীদের থাকার ব্যবস্থা কর্মীদের জন্য হেলথ সেন্টার। হাওড়া শহরের নিকাশি ও রাস্তা সংস্কারেও জোর দেওয়া হয়েছে বলে এদিন জানান প্রতিমন্ত্রী। বলেন, ৪৭০০ কোটি টাকার নিকাশি মাস্টার প্ল্যানের কাজ জানুয়ারি থেকেই শুরু হবে। পাঁচ বছরের মধ্যে নিকাশি কাজ শেষ হবে। আপাতত বৃষ্টির কারণে রাস্তার প্যাচওয়ার্কে সমস্যা হচ্ছে। তবে পুজো মিটলে দু’দফায় শহরের সমস্ত রাস্তা সংস্কার করা হবে।