ইসলামাবাদ: ভারতীয় নৌসেনার প্রাক্তন কর্মী কুলভূষণ যাদবকে অপহরণে অভিযুক্ত পাক জঙ্গি নেতা মুফতি শাহ মীরকে গুলি করে মারল দুষ্কৃতীরা। বালুচিস্তানের তুরবাতের বাসিন্দা মুফতি অবশ্য পাকিস্তানে ধর্মীয় নেতা হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে নামাজ পড়তে যান। সেখান থেকে বেরনোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে কয়েকজন দুষ্কৃতী। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মুফতিকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, মুফতির মাথায় ও চোয়ালে গুলি লাগে। দুষ্কৃতীরা বাইকে চেপে এসেছিল। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের হয়ে দীর্ঘদিন পাকিস্তানের বালুচিস্তান, ভারত ও আরও কয়েকটি দেশে জঙ্গি কার্যকলাপ চালিয়েছেন মুফতি। তাই তাঁকে কারা খুন করল, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
২০১৬ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রাক্তন কর্মী কূলভূষণ যাদব ইরানে অপহৃত হন। অভিযোগ, আইএসআইয়ের নির্দেশে কূলভূষণকে অপহরণ করে ইরান থেকে পাকিস্তানে নিয়ে গিয়েছিলেন মুফতি। পরে পাকিস্তান দাবি করে, কূলভূষণ নাকি ভারতের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছিলেন।
মুফতির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, আইএসআইয়ের নির্দেশে তিনি বিভিন্ন জায়গায় মানব পাচারের কাজ করতেন। এছাড়া ধর্মীয় নেতার ছদ্মবেশে মাদক ও অস্ত্র পাচারও করেছেন। পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় যে সব জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, সেখানেও যাতায়াত ছিল মুফতির। ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশেও বহুবার সাহায্য করেছেন। পাকিস্তানি শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন লড়াই চালাচ্ছে বালোচ বিদ্রোহীরা। তাদের দমনের জন্য পাক সেনা পরিচালিত ‘ডেথ স্কোয়াড’-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। বহু বালোচ তরুণকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা, গুম করে দেওয়ার জন্যও মুফতিকে দায়ী করা হয়। এর আগেও দু’বার মুফতির উপর প্রাণঘাতী হামলা হয়। তবে সেই সময় বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। এবার আর রক্ষা পেলেন না তিনি।