Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করুন, সদ্য নির্বাচিত বিধায়কের কাছে আর্জি

মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করুন, সদ্য নির্বাচিত বিধায়কের কাছে আর্জি
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কয়েকদিন আগে রাজ্য পুলিসের বিরুদ্ধেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রুদ্রমূর্তি’ দেখা গিয়েছিল। সেই সঙ্গে বালি থেকে কয়লা পাচারের জন্য সিআইএসএফ-কে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সেই বার্তার পর কিছুটা হলেও চিন্তায় পড়েছে বারাসত, হাড়োয়া, দেগঙ্গা, দত্তপুকুর, মিনাখাঁর মাটি মাফিয়ারা। কারণ, ক’দিন পর থেকে শুরু হবে ভেড়ি থেকে মাটি তুলে ‘পাচার’। সেক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর দাওয়াইয়ের পর পুলিস-প্রশাসন কতটা কড়া হয় বা কেমন আচরণ করে, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে এই বেআইনি কারবারিদের। ফি-বছর শীতে মাটি-মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে চূড়ান্ত দুর্ভোদের শিকার হতে হয় বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাকে। তাঁদের আবেদন, এই অবৈধ কারবার বন্ধ করে মানুষকে রেহাই দেওয়া হোক। এই অবস্থায় মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন মাটি পাচারের ‘আঁতুড়ঘর’ হিসেবে পরিচিত হাড়োয়ার সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক শেখ রবিউল ইসলাম। 
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের শেষ বা জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে মাছের ভেড়ির পুরনো জল তুলে ফেলার পাশাপাশি কিছু মাটিও তুলে দেওয়া হয়। এবছরও তার জন্য তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে মাটি অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে মাটি মাফিয়ারা। ক্রেতাদের সঙ্গেও প্রাথমিক পর্যায়ের দরদামও হয়ে গিয়েছে বলে খবর। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এই কারবার প্রতি বছর রমরমিয়ে চলে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফুলেফেঁপে ওঠে মাফিয়ারা। রাস্তা ও আশপাশ ধুলোয় ভরে যায়। তার উপর এক-দু’পশলা বৃষ্টি হয়ে গেলে বা কোনও কারণে জল পড়লে রাস্তা এতটাই পিছল হয়ে যায় যে দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় পুলিস ও শাসক দলকে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হয়েছেন হাড়োয়ার নয়া বিধায়ক। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতোই আমরা কাজ করব। আশা করছি, মানুষের এই সমস্যা মেটাতে পারব।’ এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘প্রতি বছরই বেআইনি মাটি পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এবারও হবে। কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ এলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বিধায়ক এই মাটি মাফিয়াদের বিষয়ে কড়া হলে মানুষ অন্তত সুস্থভাবে বাঁচতে পারবে। ৩-৪ মাস মাটির গাড়ির দাপটে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তাপস মিত্র বলেন, ‘তৃণমূলের নেতারাই তো মাটি মাফিয়া। মাটি বিক্রির মরশুমে একদিন বিভিন্ন মোড়ে পুলিস চেকিং করুক। তাহলেই সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।’ সিপিএমের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী কয়লা, বালির ক্ষেত্রে প্রয়োজনে টেন্ডার করে দিতে বলেছেন। মাটির ক্ষেত্রেও সেটা করা হোক। তাহলে সরকারের লাভ হবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ