Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

মেশিনের যুগে বাজার হারাচ্ছে অসমের হাতে তৈরি গামছা

মেশিনের যুগে বাজার হারাচ্ছে অসমের হাতে তৈরি গামছা
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সঞ্জয় সরকার, গুয়াহাটি: বাংলার রসগোল্লা কিংবা দার্জিলিংয়ের চা মানেই ঐতিহ্যের গরিমা। ঠিক তেমনই আবেগের সুড়সুড়ি জাগায় অসমের প্রসিদ্ধ গামুসা (গামছা)। অসমিয়া সংস্কৃতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান অধিকার করে আছে দেড় মিটার দৈর্ঘ্যের হাতে বোনা এই বস্ত্রখণ্ড। সাদা কাপড়ের উপর লাল সুতোর নকশায় মিশেছে অপূর্ব শিল্পকলা, যা ছড়িয়ে দেয় উৎসবের আমেজ। তাই বিহুর সঙ্গে এর বিশেষ সম্পৰ্ক রয়েছে। গামছা মাথায় বেঁধে নাচে অংশ নেন পুরুষরা। আর এই কারণেই গামছাকে বিহুয়ানও বলা হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে হাতে তৈরি গামছার জোগানে টান পড়ছে। তার অন্যতম কারণ কারিগরদের যথার্থ মজুরি ও সুবিধাজনক ঋণ-কাঠামোর অভাব। জোগানের সঙ্গে চাহিদার ভারসাম্য না থাকায় দরও বেড়েছে ঢের বেশি। সময়ের যাঁতাকলে পিষ্ট ঐতিহ্যবাহী এই হস্তশিল্পকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাজার দখল করেছে মেশিনে তৈরি অপেক্ষাকৃত শস্তা দরের গামছা।
Advertisement
অসমের ভেল্লাপাড়া গ্রামের প্রায় প্রত্যেক বাড়ির মহিলারাই যুক্ত তাঁত শিল্পের সঙ্গে। সেখান থেকেই গামছা এনে গুয়াহাটির মার্কেটে পাইকারি বিক্রি করেন মন্টু কালিতা। বেলতলা বসিস্ট রোডের কাছে তাঁর একটি ছোট্ট বুটিকও রয়েছে। হাতের কাজ করা গামছা থেকে অসম তাঁত সিল্ক—সবরকম বস্ত্রের সমাহার। হস্তশিল্পের চাহিদা কেন কমছে? হতাশার সুরে মন্টু জানান, ‘গামছা আমাদের রাজ্যের সংস্কতির অন্যতম অঙ্গ। পর্যটক মহলেও এর বিশাল আকর্ষণ। উৎসবের সময় চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, তবুও দিনে দিনে রুগ্ণ হয়ে পড়েছে গামছা শিল্প। জরির কাজ করা একটি গামছা বুনতে একজন কারিগরের কম করে তিনদিন সময় লাগে। তার সঙ্গে রয়েছে সুতো মেলালে খরচ গিয়ে দাঁড়ায় আড়াই-তিন হাজারে। বাজারে সঠিক দাম পাওয়া মুশকিল। ফলে চাহিদা বেড়েছে মেশিনে তৈরি গমছার। দামও দেড়শো থেকে পাঁচশোর মধ্যে সীমিত। তাই ক্রমশ সংকটে ডুবেছে হাতে তৈরি গামছা শিল্প। বিপাকে পড়ে তাঁতিরাও বেছে নিচ্ছেন বিকল্প জীবিকা।’
প্রৌঢ় মন্টু কালিতার চোখেমুখে একরাশ বিষণ্ণতা। কিছুক্ষণের বিরতির পর মুচকি হেসে যোগ করলেন, ‘তবে এখনও অনেক মানুষ রয়েছেন, যাঁরা ঐতিহ্যের সঙ্গে আপোস করেন না। দামের পরোয়া না করে হাতে তৈরি গামছা নিয়ে যান। অনেকে আবার অতিথিদের কাঁধে উপহার স্বরূপ চাপিয়ে দেন হাতে তৈরি গামছা। তখন এই অধমের খোঁজ পড়ে!’- নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ