নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ভ্যানে মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ভ্যানে এক একবার চারটি করে মৃতদেহ গাদাগাদি করে নিয়ে যাওয়া হয়। মৃতদেহগুলি কম্বল দিয়ে কোনওরকমে ঢাকা থাকে। দড়ি দিয়ে বাঁধাও হয়। কিন্তু মৃতদেহের পা বেরিয়ে থাকে। এই অবস্থাতেই ভ্যানচালক মর্গে নিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে যা পরিচিত দৃশ্য। ওই দৃশ্য দেখে অনেকেই ভয়ে শিউরে ওঠেন। এতে শিশুদের মনে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। সকলেই চাইছেন, এব্যাপারে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক। তাঁদের দাবি, ঢাকা দেওয়া গাড়িতে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি তাপস ঘোষ বলেন, বিশেষ গাড়ি আনার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।
Advertisement
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে মর্গ রয়েছে। হাসপাতাল থেকে মর্গের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভ্যানে চাপিয়ে মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের গেট হয়ে আফতাব অ্যাভিনিউ রোড ধরে মর্গে দেহ নিয়ে যাওয়া হয়। কম্বলে ঢাকা মৃতদেহ নিয়ে নিয়মিত সেই রাস্তা দিয়েই ভ্যান চলাচল করে। স্থানীয়রা বলেন, এক এক সময় চারটি করে মৃতদেহ ভ্যানে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কখনও আবার দিনে দু’বারও মৃতদেহ বোঝাই ভ্যান ওই রাস্তায় দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার ওই দৃশ্য পথচলতি মানুষকে বিচলিত করে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশ বলেন, এই দৃশ্য দেখে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। বাইরে থাকা লোকজন আমাদের কাছে প্রশ্ন করেন। তাঁদের দাবি, মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার পদ্ধতি বদলানো দরকার। স্থানীয় ব্যবসায়ী নিতাই পাল, রাজকুমার দাসরা বলেন, এভাবে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে খুবই খারাপ লাগে। এই রাস্তা দিয়ে বহু মানুষ যাতায়াত করেন। মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য ঢাকা গাড়ির ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। বাবুরবাগের বাসিন্দা তাপস দাস বলেন, মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় মাঝেমধ্যে এই দৃশ্য দেখে। কার পা, কেন মারা গিয়েছে, এসব জানতে চায়। ওর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। এবিষয়ে হাসপাতালের এক কর্মী বলেন, একটি টানা গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি খুব ভারী হওয়ায় চালাতে সমস্যা হতো। টোটোর ব্যবস্থা করা হলে ভালো হয়। চালিয়ে নিয়ে যেতেও সুবিধা হয়।



