Bartaman Logo
৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কেন্দ্রের সব হাসপাতালে এমআর প্রবেশে জারি করা হল নিষেধাজ্ঞা

সরকারি হাসপাতালে মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভদের (এমআর) আসা যাওয়া নিয়ন্ত্রণে একযুগ ধরে নানা সরকার নানা ধরনের নির্দেশ চালু জারি করেছে। কোনওটাতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রের সব হাসপাতালে এমআর প্রবেশে জারি করা হল নিষেধাজ্ঞা
  • ৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি হাসপাতালে মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভদের (এমআর) আসা যাওয়া নিয়ন্ত্রণে একযুগ ধরে নানা সরকার নানা ধরনের নির্দেশ চালু জারি করেছে। কোনওটাতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোনওটাতে অফিশিয়াল চেম্বার ছাড়া আউটডোর বা অন্যত্র যাতায়াত বারণ করা হয়েছে। কোনও নির্দেশে আবার সুস্পষ্টভাবে এমআরদের আসা-যাওয়াই বারণ করা হয়েছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা! এইবারে দেশের সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতালে এমআরদের আসা-যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে এইমস-সহ ২২টি কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতাল আছে। 

Advertisement

ওয়াকিবহল মহলের মতে, চিকিৎসকদের একাংশের সঙ্গে ওষুধ কোম্পানির অশুভ আঁতাত ভাঙতেই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি আউটডোরকালে রোগী দেখার সময় যাতে বারবার ব্যাঘাত না ঘটে, সেটাও দেখা হয়েছে। নির্দেশে কী বলেছে কেন্দ্র? কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের ডিরেক্টর জেনারেল হেলথ সার্ভিসেস (ডিজিএইচএস) ডাঃ সুনীতা শর্মা এই নির্দেশনামা করে জানিয়েছেন, কোনও মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভকে কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতালের চত্বরে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়াই অনুচিত। এই নির্দেশ যাতে পালিত হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের প্রশাসনিক প্রধানকে হাসপাতালের সমস্ত মহলকে কড়া নির্দেশ দিতে হবে। এদিকে বহু চিকিৎসকই বলে থাকেন, এমআর ভিজিট নিজেদের আধুনিক ওষুধ বিজ্ঞান, নিত্যনতুন চিকিৎসা প্রণালী এবং ওষুধ সম্পর্কে আপডেট থাকবার জন্য জরুরি। এইবারের নির্দেশে তারও বিকল্পের সংস্থান দিয়েছে কেন্দ্র। জানিয়েছে, ই-মেইল বা অনলাইন মাধ্যমে মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভরা চিকিৎসকদের নিত্যনতুন ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করতেই পারেন। এই নির্দেশ জারি করে রাজ্যগুলিও যাতে এই পথে হাঁটে, সেই চাপ বাড়ল কেন্দ্র। এদিকে এই নির্দেশনামা প্রসঙ্গে অল ওয়েস্ট বেঙ্গল সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ রায় বলেন, পেশাগত প্রয়োজনে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভরা চিকিৎসকদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত হাসপাতাল, নার্সিংহোম, চেম্বারে দেখা করেন। এটা কোম্পানিগুলির লিখিত নির্দেশ, আইনসিদ্ধও বটে এবং দীর্ঘকাল ধরে সামাজিকভাবে স্বীকৃত। কেন্দ্রীয় সরকারের এই নির্দেশ তুঘলকি। তারা এমআর পেশাটাই বন্ধ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা না বলে ই-মেল বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে যোগাযোগ করার যে উপদেশ কেন্দ্রীয় সরকার দিয়েছে তা আগামী দিনে এই পেশাকেই অকিঞ্চিৎকর করে তুলবে। অবিলম্বে এই নির্দেশ খারিজ করার জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কাছে প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অভিজিৎবাবু।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ