Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মায়াপুর হুলোরঘাট বাসস্ট্যান্ডের অবস্থা বেহাল, সমস্যায় পর্যটকরা

মায়াপুর হুলোরঘাট বাসস্ট্যান্ডের অবস্থা বেহাল, সমস্যায় পর্যটকরা
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র মায়াপুর হুলোরঘাটের বাসস্ট্যান্ডের অবস্থা বেহাল। নেই কোনও যাত্রী প্রতিক্ষালয়, নেই আচ্ছাদন। পানীয় জলের জন্য বাসস্ট্যান্ডের ভিতরে আর্সেনিক, আয়রন ও ব্যাকটেরিয়া মুক্ত পানীয় জল প্রকল্পটিও কয়েক মাস ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। একটি মাত্র শৌচাগার আছে। তবে সেটি নিয়মিত পরিষ্কার হয় না। সেই শৌচাগারের জলের মোটর পাম্পটি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফলে বাসকর্মীদের শৌচকর্মের জন্য পার্শ্ববর্তী বাড়িতে যেতে হয়। এমনকী, বাসস্ট্যান্ডের অধিকাংশ আলোও নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সন্ধ্যার পর বাসস্ট্যান্ড এলাকা প্রায় অন্ধকারে ডুবে যায়। বাসস্ট্যান্ডে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে আবর্জনা।
Advertisement
পাশাপাশি ওই বাসস্ট্যান্ডে বাস সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকলেও সেখান থেকে কোনও যাত্রীদের বাসে তোলা হয় না। বাসস্ট্যান্ড থেকে কিছুটা দূরে হুলোরঘাট তিনমাথার মোড়ে বাস দাঁড় করিয়ে সেখান থেকে যাত্রীদের তোলা হয়। দীর্ঘ সময় রাস্তার উপর বাস দাঁড়িয়ে থাকার ফলে মায়াপুরের প্রবেশদ্বারের রাস্তায় প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকছে। একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে একাধিক টোটোও। সবমিলিয়ে প্রতিদিনই যাতায়াত সমস্যায় পড়তে হয় স্কুল পড়ুয়া, নিত্যযাত্রী থেকে মায়াপুরে ঘুরতে আসা পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের। অভিযোগ, এই বেহাল পরিস্থিতিতেও কোনও হেলদোল নেই স্থানীয় পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের। 
প্রতিদিন এই বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২৫টি গাড়ি মায়াপুর থেকে ভায়া ধুবুলিয়া হয়ে কৃষ্ণনগরের মধ্যে যাতায়াত করে। ১৭টি বাস হুলোরঘাট স্ট্যান্ডে রাতে থাকে। মায়াপুর-কৃষ্ণনগর রুটের বাসের কন্ডাক্টর শুকচাঁদ মল্লিক বলেন, এই বাসস্ট্যান্ডে থেকে ২৫টি বাস চলাচল করে। কিন্তু এই বাসস্ট্যান্ড ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না। কয়েক মাস ধরে পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থা নেই। শৌচকর্মের জন্য অন্যত্র যেতে হয়। বাসস্ট্যান্ডে তেমন কোনও আলোর ব্যবস্থা নেই। ভিতরে একটা মাত্র আলো জ্বলে।
অপর বাসচালক দীপক সিং বলেন, এই রুটে ১০ বছর ধরে গাড়ি চালাই। ভোর সওয়া ৪টে থেকে হুলোর ঘাট থেকে বাস ছাড়া হয়। কিন্তু আলো না থাকায় খুবই সমস্যায় পড়তে হয়। শৌচাগারে যেতে সমস্যা হচ্ছে। মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে যেতে হয়। এই বাসস্ট্যান্ডে কোনও প্রতীক্ষালয় ও কোনও শেড নেই। রোদ, জল, বৃষ্টিতে খুবই সমস্যা হয়। আমরা বাধ্য হয়ে হুলোর ঘাট তিনমাথার মোড়ে রাস্তার উপর গাড়ি থামিয়ে প্যাসেঞ্জার তুলি। 
স্থানীয় বাসিন্দা শেফালি কুণ্ডু বলেন, এই বাসস্ট্যান্ডটি চালু হলে ভালো হয়। তাহলে তো মায়াপুর হুলোরঘাটের যানজট হয় না। শৌচাগার যা আছে সেটা ব্যবহারের যোগ্য নয়। বিশেষ করে মহিলাদের খুবই সমস্যা হয়। 
নবদ্বীপ পঞ্চায়েতের সমিতির সহ সভাপতি তাপস ঘোষ বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র মায়াপুরের যানজট মুক্ত করতেই ২০১৬–’১৭ সালের অর্থবর্ষে এই বাসস্ট্যান্ড করা হয়েছিল। কিন্তু ওই বাসস্ট্যান্ড থাকা সত্ত্বেও বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রীদের তোলা হয় না। এনিয়ে শীঘ্রই আমরা আলোচনা করব। কী সমস্যা আছে। কীভাবে সুষ্ঠু সমাধান করা যায় তার চেষ্টাই করতে হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ