


সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: তপ্ত রোদেও উৎসাহে ভাটা নেই। রাস্তার দু› ধারে মানুষের ভিড় থেকে উঠছে গগনভেদী স্লোগান, ইউসুফ পাঠান জিন্দাবাদ, তৃণমূল কংগ্রেস জিন্দাবাদ। সোমবার সকালে ঠিক এই মেজাজেই সামশেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নুর আলমের সমর্থনে ভোট প্রচারে নামলেন বহরমপুরের সাংসদ প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। এদিন হুড খোলা গাড়িতে চড়ে বাসুদেবপুর এলাকায় যখন তিনি ঢোকেন, তখন জনজোয়ার আছড়ে পড়ে রাস্তার দু’ পাশে। বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে ইউসুফ পাঠান এদিন স্পষ্ট জানান, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে মা মাটি মানুষের সরকার তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করা ছাড়া উপায় নেই। তাঁর কথায়, বাংলার সংহতি আর সম্প্রীতি বজায় রাখতে তৃণমূলকেই ভোট দিন।
এদিন সকাল থেকেই সামশেরগঞ্জের রাজনৈতিক পারদ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। সকালে সামশেরগঞ্জে পৌঁছে একটি সমর্থকের বাড়িতে দই ও কলা খেয়ে হুড খোলা গাড়িতে নুর আলমকে পাশে নিয়ে জনসংযোগ সারেন ইউসুফ। কখনও দু’ হাত জোড় করে নমস্কার, কখনও আবার জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান বিশ্বজয়ী এই ক্রিকেটার। তারকা সাংসদকে হাতের নাগালে পেয়ে কর্মী সমর্থক থেকে সাধারণ মানুষ সকলের মধ্যেই সেলফি তোলার হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। হাসিমুখে সেই আবদার মেটাতেও দেখা যায় পাঠানকে। এদিন কাঁকুড়িয়া, চসকাপুর ও চাঁদপুর হাটে যান তিনি। সেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে নুর আলমের সমর্থনে ভোট চান পাঠান। প্রার্থীর সমর্থনে এই মেগা শোয়ে ইউসুফ পাঠানের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমানও। প্রার্থী নুরে আলাম প্রচারে গিয়ে সাধারণ মানুষকে এসআইআরের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখার বার্তা দেন।
সামশেরগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনী প্রচারের পর বিকেল লালগোলার প্রার্থী ডা: আব্দুল আজিজের সমর্থনে র্যালি করেন পাঠান। লালগোলার নলডহরি গোডাউন মোড় থেকে হুড খোলা গাড়িতে র্যালি বের হয়ে লতিবের পাড়া, মানিকচক, আশারিদহ ঘাট, আয়েরমারি, ধূলাউড়ি হয়ে যশইতলায় শেষ হয়। ইউসুফ পাঠান প্রার্থীর সমর্থনে র্যালি করবেন এই খবর জানাজানি হতেই এদিন সকাল থেকে স্থানীয় তৃণমূল নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের প্রবল উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। যদিও নির্দিষ্ট সময়ের বেশ কিছুক্ষণ পরেই প্রার্থীকে নিয়ে গোডাউন মোড়ে হাজির হন ইউসুফ পাঠান। তিনি এসে পৌঁছতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন নেতাকর্মী থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা। ফুল ছিটিয়ে, মালা পরিয়ে ইউসুফ পাঠান এবং প্রার্থীকে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর র্যালি ধীরে ধীরে লতিবের পাড়ার দিকে এগোতে শুরু করে। বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেট দলের অন্যতম যোদ্ধাকে দেখার জন্য রাস্তার দুপাশে আট থেকে আশির পুরুষ ও মহিলারা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে দাঁড়িয়েছিলেন। হাত নেড়ে, শুভেচ্ছা বিনিময় করে দলীয় প্রার্থীর হয়ে ভোট ভিক্ষা করেন ইউসুফ।
বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য সুজিত দাস বলেন, ইউসুফ পাঠান নিজেই বহিরাগত, তিনি বাঙালির সমস্যা কী বুঝবেন। আগামী ৪ মে বোঝা যাবে। খলিলুর রহমান বলেন, ইউসুফ পাঠানের উপস্থিতি কর্মীদের মনোবল কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। উন্নয়নের নিরিখে সামশেরগঞ্জের মানুষ আবারও তৃণমূলের উপরেই আস্থা রাখবেন বলে আশা রাখি।