নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আসতেই কাটল জট। শুরু হতে চলেছে ‘জলজীবন মিশন’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ। পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হচ্ছে। এই বরাদ্দ পেতে রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের একটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রয়োজন ছিল। সোমবার কেন্দ্রীয় জলশক্তিমন্ত্রী সি আর পাতিল এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে সেই চুক্তি বা ‘মউ’ স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ফলে রাজ্যে বাড়ি বাড়ি জলের পাইপলাইন পৌঁছে দেওয়ার থমকে থাকা কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে আশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
এদিন নবান্ন থেকে ‘মউ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ছিলেন কেন্দ্র ও রাজ্যের পদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। সেখানে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী বলেন, ‘২০১৯ সালে জলজীবন মিশন শুরু হওয়ার সময় পশ্চিমবঙ্গের মাত্র ১ শতাংশ গ্রামীণ পরিবার নলবাহিত জলের সুবিধা পেত। এখনও পর্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় ৯৭.৫০ লক্ষ পাইপলাইন সংযোগ দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট প্রায় ৭৫ লক্ষ পরিবারকে এই সংযোগ দিতে কাজে আরও গতি আনতে হবে।’ স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার বিষয়টিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য রাজ্যে এই প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত হওয়া কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলনেতা হিসাবে আমি গ্রামে গ্রামে ঘুরেছি। তাতে বুঝেছি, কেন্দ্র যত টাকা দিয়েছে, তার ব্যবহার ও বাস্তবায়ন তেমন কিছু হয়নি। কাজ হয়েছে শুধু কাগজকলমে। এটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। তবে যে প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছি, মোদিজির নেতৃত্বে তা আগামী দিনে পূরণ করব।’
প্রসঙ্গত, রাজ্য শেষবার ‘জলজীবন মিশন’-এর টাকা পেয়েছিল ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে। তারপরও প্রস্তাবিত বরাদ্দের প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা প্রাপ্য ছিল রাজ্যের। সেই বছর মার্চেই এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বকেয়া টাকা পাওয়ার জন্য রাজ্য চিঠিচাপাটি থেকে একাধিক বৈঠক চালিয়ে যায়। এসবের মধ্যে এসে পড়ে লোকসভা নির্বাচন। তারপর কেন্দ্রীয় বাজেটে এই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। এর মধ্যে রাজ্যকে কেন্দ্র জানায়, প্রকল্পের টাকা পেতে গেলে ‘মউ’ স্বাক্ষর করতে হবে। সেই সঙ্গে পাইপলাইন ও পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি নীতি তৈরি করতে হবে। এসব হতে না হতে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যায়। ফলে ‘মউ’ অধরা থেকে যায়। অবশেষে সেই চুক্তিই এদিন স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এদিন ভার্চুয়াল বৈঠকে রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আনার জন্য শুভেন্দু ও সি আর পাতিল একে অপরকে অভিনন্দন জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত জনপ্রিয় মন্ত্রী সি আর পাতিল আমাকে সবসময় উৎসাহিত করেছেন। তিনি খুব খুশি, এই চেয়ারে আমাকে দেখে।’ তাঁকে উদ্দেশ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘আপনি পুরো দেশের ইচ্ছা পূরণ করেছেন। গোটা দেশ খুশি আপনার জয়ে।’