


সংবাদদাতা, কান্দি: বিশেষভাবে সক্ষম ছেলেকে বিষ খাইয়ে নিজেও বিষ খেলেন মা। শুক্রবার এই ঘটনায় কান্দি থানার মাধুনিয়া গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরে হাসপাতালে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মা-ছেলের নাম দোলন রায়(৫১) ও অভিজিৎ রায়(২৭)। পুলিশ দেহ দু’টি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। মা-ছেলের মৃত্যুর পর ওই পরিবারে আর কেউ বেঁচে রইলেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাধুনিয়া গ্রামের ওই পরিবারের কর্তা জন্মেজয় রায় বহু বছর আগে মারা গিয়েছেন। বাড়িতে ছিলেন দোলনদেবী ও তাঁর একমাত্র ছেলে অভিজিৎ। তবে, অভিজিৎ মানসিক ভারসাম্যহীন। পাশাপাশি তিনি ঠিকমতো হাঁটাচলা এবং ভালভাবে কথা বলতে পারতেন না। দোলনদেবী পরিচারিকার কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাতেন। তবে, পরিবারটি বাংলার বাড়ি পেয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, এদিন সকাল ১০টা বেজে গেলেও ওই বাড়ি থেকে কাউকে বের হতে দেখা যায়নি। এরপর দরজা খুললে দেখা যায়, মা ও ছেলে অসুস্থ অবস্থায় মেঝেয় পড়ে রয়েছেন। তাঁদের মুখ থেকে কীটনাশকের গন্ধ ও গ্যাঁজলা বের হচ্ছিল। তা দেখে প্রতিবেশীদের বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে, উভয়েই বিষ পান করেছেন। এরপর তাঁরা তড়িঘড়ি দু’জনকে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন। উভয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু গোকর্ণ গ্রামের কাছে অভিজিতের মৃত্যু হলে তাঁর দেহ কান্দি মহকুমা হাসপাতালের মর্গে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় মায়ের।
প্রতিবেশী রাজা সিনহা বলেন, কোনো সমস্যা হলে ওঁরা আমাদের জানাতেন। আমরা বহুবার ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। এবার এমন কী ঘটল যার কারণে ওঁদের বিষ খেতে হল, বুঝতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে অভিজিতের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি যে, প্রথমে ছেলেকে বিষ খাইয়ে পরে মা বিষ খান।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। অপর প্রতিবেশী আশিস দাস বলেন, মা ও ছেলের মৃত্যুতে ওই পরিবারে আর কেউ বেঁচে রইলেন না। এমন অবস্থায় আমরা, গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করছি।
কান্দি পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ তথা স্থানীয় বাসিন্দা গৌরব চট্টোপাধ্যায় বলেন, কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল তা আমরা বুঝতে পারছি না। ওঁরা কোনো সমস্যায় ভুগছিলেন কি না, তা কেউ বলতে পারছেন না। তবে, পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা অন্যতম কারণ হতে পারে।