Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

ডুবে যাওয়ার পরও সন্তানকে বুকে আঁকড়ে মা! মর্মান্তিক দৃশ্যে শোকস্তব্ধ উদ্ধারকারীরা

প্রবল দুর্যোগ। হাওয়ার দাপটে টালমাটাল বোট। মৃত্যু সামনে। ওই অবস্থাতেই শিশু সন্তানকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন মা।

ডুবে যাওয়ার পরও সন্তানকে বুকে আঁকড়ে মা! মর্মান্তিক দৃশ্যে শোকস্তব্ধ উদ্ধারকারীরা
  • ৩ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভোপাল: প্রবল দুর্যোগ। হাওয়ার দাপটে টালমাটাল বোট। মৃত্যু সামনে। ওই অবস্থাতেই শিশু সন্তানকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন মা। নিজের লাইফ জ্যাকেটের মধ্যেই আষ্টেপৃষ্ঠে আঁকড়ে ধরেছিলেন ছেলেকে। কিন্তু নিয়তির কাছে হার মানল মায়ের শেষ চেষ্টাও। জব্বলপুরে নর্মদা নদীর বরগি ড্যামে প্রমোদ তরী ডুবে যাওয়ার পর শুক্রবার একের পর এক দেহ উদ্ধার হচ্ছে। ঠিক তখনই দেখা গেল, একটি লাইফ জ্যাকেটের মধ্যে একে-অন্যকে জড়িয়ে রয়েছে নিথর মা ও ছেলে। আলগা হয়নি মায়ের হাত। মৃত্যুও ‘আলাদা’ করতে পারেনি মারিনা ম্যাসি ও তাঁর শিশুসন্তান ত্রিশানকে। এমন মর্মান্তিক দৃশ্যে শোকস্তব্ধ উদ্ধারকারী দলও। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিজন। চোখের জল সামলাতে পারেননি না মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী রাকেশ সিংও!

Advertisement

ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সেই ঘটনার ছবি ও ভিডিয়ো। যদিও জব্বলপুর জেলা প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বরগি ড্যামের ওই দুর্ঘটনার সঙ্গে ছবিগুলির কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলি এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। অন্য কোনো ঘটনারও হতে পারে। জেলা প্রশাসনের এমন বক্তব্য সামনে আসার পর বিভ্রান্তির পাশাপাশি বিতর্কও চরমে। একাংশের বক্তব্য, নিজেদের গাফিলতি ঢাকতে অজুহাত খোঁজার চেষ্টা করছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, দিল্লি থেকে গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন মারিনা। তবে কোনোক্রমে বেঁচে গিয়েছেন মারিনার মেয়ে সিয়া ও স্বামী প্রদীপ।
দুর্ঘটনার পর চরম আতঙ্কে বোটের পাইলট মহেশ প্যাটেল। মহেশ বলেন, ‘খামারিয়া দ্বীপ থেকে রওনা দেওয়ার সময় আকাশ পরিষ্কার ছিল। মাঝ-নদীতে হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু হয়। আমাদের কাছে কোনো সতর্কবার্তা ছিল না। ঝড় উঠতেই তড়িঘড়ি ক্রুজ ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিই। ততক্ষণে জল ঢুকতে শুরু করেছে। ভয়ে চেঁচাতে শুরু করেছেন যাত্রীরা। আমি রিসেপশন ডেস্কে ফোন করে আর একটি বোট পাঠানোর আবেদন জানাই। কিন্তু ইঞ্জিন রুমে জল ঢুকতেই নিয়ন্ত্রণ হারায় ক্রুজ। ১৫ বছরে এমন অভিজ্ঞতা হয়নি।’ ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করা হয়েছে মহেশকে। তাঁর কথায়, ‘আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। এখনও আতঙ্কে রয়েছি। কিছুই খেতে পারছি না। ঘুমোতে পারছি না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ