সংবাদদাতা, বারুইপুর: টানা বৃষ্টির জেরে মাটির বাড়ি চাপা পড়ে মৃত্যু হল মা ও দুই মেয়ের। বৃহস্পতিবার রাতে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মন্দিরবাজার থানার আচনা পঞ্চায়েতের পশ্চিম রামনাথপুর কর্মকার পাড়ায়। পুলিস ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। মৃতেরা হল বৃহস্পতি কর্মকার (৪৩), শিলা কর্মকার (১৪) ও প্রিয়া কর্মকার (১০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লিন্টেল পর্যন্ত কাজ হয়ে গিয়েছিল পাকা বাড়ির। গত ৩০ আগস্ট বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা এসেও গিয়েছিল। সেটা তুলতে যেতে পারেননি বৃহস্পতি।
শুক্রবার সকালে উঠে প্রতিবেশীরা দেখেন, বৃহস্পতির ঘর ভেঙে পড়েছে। দেওয়াল চাপা পড়ে রয়েছে মা ও দুই মেয়ের দেহ। তাঁরা দ্রুত এসে তিনজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় নাইয়ারাট গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান চিকিৎসকরা তিনজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। বৃহস্পতির স্বামী ছ’বছর আগে মারা গিয়েছেন। টালির ছাউনি ও মাটির দেওয়ালের ঘরে মেয়ে শিলা ও প্রিয়াকে নিয়ে থাকতেন ওই মহিলা। তাঁর ছেলে কিরণ কর্মকার কলকাতায় দিনমজুরের কাজ করেন। পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালাতেন বৃহস্পতি।
লাগাতার বৃষ্টিতে ওই মাটির বাড়ির হাল ক্রমশ খারাপ হচ্ছিল। প্রতিবেশীরা তাঁকে সেখানে থাকতে বারণ করেছিলেন। মৃতের বোন বেবি রানা বলেন, মৃত্যুর খবর পেয়ে জয়নগর থেকে ছুটে এসেছি। দিদিকে মাটির বাড়িতে না থাকতে বার বার বারণ করা হয়েছিল। কিন্তু স্বামীর ভিটে কিছুতেই ছাড়তে চায়নি দিদি। শেষে দুই মেয়েকে নিয়ে জীবনটাই চলে গেল।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল, বৃহস্পতিদেবীর নতুন বাড়ির একাংশ তৈরি হয়ে গিয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘরের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা কিছুদিন পরে তুলবেন বলে ঠিক করেছিলেন। তা আর হয়ে উঠল না। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই সকালে বাড়ি চলে আসেন কিরণ। মা ও দুই বোনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ তিনি।
তবে এদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসিন্দাদের ক্ষোভের মধ্যে পড়তে হয় এলাকার বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য সুলেখা হালদারের স্বামী প্রদীপ হালদারকে। কেন মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করতে এসেছেন, প্রশ্ন তোলেন বাসিন্দারা। এলাকায় অনেকের মাটির বাড়ি। তবুও পঞ্চায়েত সদস্য কেন এই অবস্থা দেখেও চুপ করে আছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বাসিন্দারা। খবর পেয়ে এলাকায় যান বিধায়ক জয়দেব হালদার ও মথুরাপুর লোকসভার সাংসদ বাপি হালদার। সাংসদ মৃত মহিলার ছেলের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেন।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বেও এক প্রতিনিধি দল যায় ঘটনাস্থলে। মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন নেতারা। দুপুরে ঘটনাস্থলে যান প্রাক্তন মন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি ছেলে কিরণ কর্মকারকে সমবেদনা জানান। পরে কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, মৃত্যু দুর্ভাগ্যজনক। সরকারের কাছে ওই পরিবারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।