Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘বর্তমান’-এর খবরের জের, জঙ্গলে আশ্রয় নেওয়া মা ও মেয়ের ঠাঁই হল সরকারি হোমে

‘বর্তমান’-এর খবরের জের, জঙ্গলে আশ্রয় নেওয়া মা ও মেয়ের ঠাঁই হল সরকারি হোমে
  • ৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: অবশেষে নবদ্বীপের জঙ্গলে বাস করা স্বামী বিচ্ছিন্না বধূ ও তাঁর মেয়ের ঠাঁই হল সরকার পোষিত হোমে। ওই মহলিাকে নিয়ে ‘বর্তমান’ কাগজে খবর বেরনোর পরে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বিষয়টি জেলা সমাজ কল্যাণ দপ্তরের আধিকারিকদের কানে যায়। বৃহস্পতিবার তাঁরা অসহায় মা-মেয়েকে করিমপুর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অধীন একটি হোমে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। মেয়েটি পড়াশোনায় খুব আগ্রহী, তাই তার ইচ্ছেপূরণের উদ্যোগ নেবে সরকার। এমনটাই জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তারা। 

Advertisement

কৃষ্ণনগর সদর মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই মহিলা এবং তাঁর মেয়েকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। করিমপুরে সোশাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অধীনে কবিতা শক্তি সদন হোমে রাখা হয়েছে। সরকারি তত্ত্বাবধানে মা ও মেয়ে থাকবেন। ওঁরা যাতে নিরাপদ ও ভালো থাকেন তার ব্যবস্থা করবে সরকার। মেয়েটির পড়াশোনার বিষয়টিতেও নজর দেওয়া হবে।  জেলা সমাজ কল্যাণ আধিকারিক শমিতা ভট্টাচার্য বলেন, মা ও মেয়েকে করিমপুর শক্তি সদন হোমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। নবদ্বীপ থানার আইসি  জানিয়েছেন, সাধারণত এই ধরনের মহিলাদের পাওয়া গেলে নিয়মকানুনের মধ্যে দিয়ে হোমে পাঠানো হয়। সেই পদ্ধতি মেনে করিমপুরের ওই হোমে রাখা হয়েছে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। এখন ভালো রয়েছেন। আগে নিজের নামটা বলছিলেন না। এখন নাম জানিয়েছেন। গত ১ এপ্রিল নবদ্বীপ পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাচীন মায়াপুরে জন্মস্থান ঘাটের কাছে ঘন ঝোপঝাড়ে ওই মহিলা তাঁর সাত বছরের মেয়েকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই খবর ‘বর্তমান’ কাগজে গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ পেলে নবদ্বীপ থানার পুলিস তাঁদের উদ্ধার করেন। ওই মহিলা জানিয়েছেন, তাঁর নাম সীমা দাস। হাওড়ার বাসিন্দা। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করতেই তিনি ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে চলে আসেন নবদ্বীপে। দিন পনেরো ধরে জঙ্গলে ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সমাজ কল্যাণ দপ্তরের এক প্রতিনিধি দল ওই আশ্রম এলাকায় আসে। পুলিসের সহযোগিতায় মা-মেয়েকে করিমপুরের ওই হোমে নিয়ে যায়। মা-মেয়ের নিরাপদ আশ্রয়েরর ব্যবস্থার কথা জেনে খুশি নবদ্বীপবাসী। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, জঙ্গলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। তাঁরা এখন স্বস্তিতে।  তখন মেয়েকে নিয়ে জঙ্গলে (বাঁদিকে)। এখন হোমে (ডানদিকে)। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ