Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নথি জমা দেওয়া অধিকাংশ ভোটার এখন অবজার্ভারদের চোখে ‘সন্দেহভাজন’, উদ্বেগ

উত্তর ২৪ পরগনায় ৯ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নথি ‘নিড টু বি রিভিও’ অর্থাৎ যাচাই করার সুপারিশ করেছেন অবজার্ভাররা। নির্বাচনি পরিভাষায় ‘সন্দেহভাজন’ ভোটার! কিন্তু পুনর্বিবেচনার এই পর্যবেক্ষণ অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে বহু ভোটারের কাছে

নথি জমা দেওয়া অধিকাংশ ভোটার এখন অবজার্ভারদের চোখে ‘সন্দেহভাজন’, উদ্বেগ
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: উত্তর ২৪ পরগনায় ৯ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নথি ‘নিড টু বি রিভিও’ অর্থাৎ যাচাই করার সুপারিশ করেছেন অবজার্ভাররা। নির্বাচনি পরিভাষায় ‘সন্দেহভাজন’ ভোটার! কিন্তু পুনর্বিবেচনার এই পর্যবেক্ষণ অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে বহু ভোটারের কাছে। তবে, এক্ষেত্রে ভোটারদের ভবিষ্যৎ কি সেই উত্তর অবশ্য জানা নেই জেলা নির্বাচন দপ্তরের। তাহলে কি ফের ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে প্রশ্ন ভোটারদের? জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মাইক্রো অবজার্ভারদের রিপোর্টে ৫ লক্ষ ৪৪ হাজার ৫০৬ ভোটারের নথি পুনরায় খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। রোল অবজার্ভারদের পর্যবেক্ষণে আরও ৩ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫৩১ জনের ক্ষেত্রেও নথি রিভিউ প্রয়োজন। সবমিলিয়ে সংখ্যাটা ৯ লক্ষ ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ জেলার বিপুল অংশের ভোটার শুনানির মুখোমুখি হতে পারেন। পরিসংখ্যান বলছে, জেলায় মোট ১৮ লক্ষ ৯৬ হাজারের বেশি মানুষকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়। তার মধ্যে ১৭ লক্ষ ৬৭ হাজার ৬৬১ জন শুনানিতে হাজির হন। কিন্তু তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ভোটারের নথি এখন ‘সন্দেহ’র তালিকায় অবজার্ভারদের।

Advertisement

তথ্য বলছে, মাইক্রো অবজার্ভারদের নিরিখে আমডাঙায় ৪২ হাজার ৭০১ জন ভোটারের নথি রিভিউয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বসিরহাট উত্তরে ৩৭ হাজার ৪১৫। মিনাখাঁয় ৩২ হাজার ২৭৬। সন্দেশখালিতে ৩০ হাজার ৫০০। দেগঙ্গা ও হাবড়াতেও ৩০ হাজারের বেশি রিভিউয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, রোল অবজার্ভারদের তালিকায় দেগঙ্গায় ২০ হাজারের বেশি, রাজারহাট-নিউটাউনে ২১ হাজার, দমদম ও দমদম উত্তরে ১৬ হাজার, হাবড়াতে ২২ হাজার ও গাইঘাটায় প্রায় ২০ হাজার ভোটারের নথি পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে। আর এই অঙ্ক ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূলের অভিযোগ, মাইক্রো অবজার্ভাররা বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে বেশি নজর দিচ্ছেন। যে সব ব্লক ও বিধানসভায় সংখ্যালঘু জনসংখ্যা তুলনামূলক বেশি, সেখানেই রিভিউয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বেশি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই প্রক্রিয়া কতটা নিরপেক্ষ। তবে, প্রশাসনের অবশ্য দাবি, তথ্যের গরমিল থাকার কারণে এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন অবজার্ভাররা। নামের বানান ভুল, বয়সের গরমিল, ঠিকানার অমিল, বা নথির অসম্পূর্ণতা—এসব কারণেই রিভিউয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। নির্বাচনি প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধানে থাকা ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় তালিকার শুদ্ধতা বজায় রাখার কথা স্পষ্ট। কিন্তু সেই প্রয়াসে যদি কয়েকলক্ষ মানুষকে একযোগে পুনর্যাচাইয়ের মুখে পড়তে হয়, তবে স্বচ্ছতা ও আস্থার প্রশ্ন উঠবেই—মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ