নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: গ্রামের প্রাথমিক স্কুলগুলিতে শিক্ষক, শিক্ষিকার অভাব রয়েছে। অথচ পড়ুয়ার সংখ্যা অনেক বেশি। একজন শিক্ষককেই অনেক জায়গায় একসঙ্গে দু’টি করে ক্লাস নিতে হয়। উলটো ছবি শহরের প্রাথমিক স্কুলগুলিতে। বর্ধমান শহরে এমন কয়েকটি স্কুল রয়েছে যেখানে ছাত্র-ছাত্রীর তুলনায় শিক্ষক, শিক্ষিকার সংখ্যা বেশি। বাড়তি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রভাব খাটিয়ে বর্ধমান, মেমারি, কালনা, কাটোয়ার মতো শহরে পোস্টিং নিয়ে রয়েছেন বহু শিক্ষক, শিক্ষিকা। তাঁদের অনেকের সঙ্গে শিক্ষা দপ্তরের কর্তা, ব্যক্তিদের সুসম্পর্ক থাকার কারণে বদলির ঝুঁকি কেউ নেননি। শিক্ষাক্ষেত্রে এই বৈষম্য দূর হোক এমনটাই চাইছেন অভিভাবকরা। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোয়ার বলেন, এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। আমরা মেটানোর চেষ্টা করেছিলাম। তাঁরা বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শহরে গজিয়ে উঠেছে। শহরের অভিভাবকরা সেদিকেই ঝুঁকছেন। সেই কারণেই শহরের স্কুলগুলিতে পড়ুয়া সংখ্যা তলানিতে ঠেকেছে। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দাদের এখনও প্রাথমিক স্কুলের উপরেই নির্ভর করতে হয়। বিপুল টাকা খরচ করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব গরিব পরিবারের ছেলে, মেয়েদের পড়াশোনা করার সামর্থ্য নেই। ফলে তাঁরা কিন্তু সমস্যায় পড়ছেন। ভাতারের বাসিন্দা অনুপ প্রামাণিকের কথায়, প্রাথমিক স্কুলগুলির দিকে সরকারের নজর দেওয়া উচিত। ছাত্র-ছাত্রীদের ভিত তৈরি হয় এখান থেকেই। শহরের প্রাথমিক স্কুলগুলিতে শিক্ষক, শিক্ষিকার সংখ্যা অনেক বেশি রয়েছে। সেখান থেকে তাদের গ্রামের স্কুলগুলিতে পোস্টিং দেওয়া উচিত। এছাড়া স্কুলগুলিতে পড়াশোনা কেমন হচ্ছে, তার জন্য ধারাবাহিক নজরদারি চালানো প্রয়োজন।



