নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ষোড়শ অর্থ কমিশনের টাকা পাওয়ার জন্য পঞ্চায়েতগুলিকে পৃথক অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশ দিয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর। সেই মতো শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রায় ১৮৫টি পঞ্চায়েত অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলেছে। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত রয়েছে এই কাজের সময়সীমা। কিন্তু এখনও জেলার শতাধিক পঞ্চায়েতে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। অনেক পঞ্চায়েতে প্রধানদের অনুপস্থিতি চিন্তায় রাখছে প্রশাসনকে। এখনও পর্যন্ত কাগজেকলমে প্রধানদের হাতেই রয়েছে পঞ্চায়েতের আর্থিক ক্ষমতা। প্রধানদের এই আর্থিক ক্ষমতা তুলে নিতে বিধানসভায় বিল পাশ হলেও রাজ্যপাল তাতে এখনও সই করেননি বলেই খবর। ফলে প্রধানদের হাতে আগের ক্ষমতাই রয়েছে। এই অবস্থায় হাতে আর এক সপ্তাহ সময় রয়েছে। তার মধ্যে অ্যাকাউন্ট না খোলা গেলে সমস্যায় পড়তে পারে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত।
কিছুদিন বাদেই ঢুকবে ষোড়শ অর্থ কমিশনের টাকা। তার আগে যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে ফেলতে চাইছে জেলা প্রশাসন। পঞ্চায়েত দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী যা যা করণীয়, তাই করছে পঞ্চায়েতগুলি। কিন্তু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, বেশ কিছু ব্লকের একাধিক পঞ্চায়েতে হয় অচলাবস্থা চলছে, নাহলে রাজনৈতিক ডামাডোল। অ্যাকাউন্ট খুলতে যেহেতু প্রধানের সই লাগবে, তাই পালাবদলের পর তৃণমূলের প্রধানদের অনেকে বেপাত্তা হওয়ায় সেই কাজ থমকে আছে। তাই প্রশাসন এখন বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল আইনে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায় আছে। সেক্ষেত্রে প্রশাসক বসিয়ে এই কাজ করিয়ে নেওয়া যাবে বলে আশাবাদী জেলা প্রশাসন।
এদিকে, এই ষোড়শ অর্থ কমিশনের টাকা পেতে আরেকটি শর্ত হল, চতুর্দশ অর্থ কমিশনের পুরো টাকা খরচ করে ফেলতে হবে। তারপর জেলা প্রশাসনকে একটি মুচলেকা দিয়ে জানাতে হবে যে কোনো টাকা আর খরচ করা বাকি নেই। এ সংক্রান্ত সার্টিফিকেট জমা পড়তে শুরু
করেছে দপ্তরে।