


নয়াদিল্লি: যুদ্ধবিধ্বস্ত পশ্চিম এশিয়া। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী। এরফলে ধাক্কা খেয়েছে তেল ও গ্যাসের আমদানি। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র বারংবার আশ্বাস দিলেও দেশে রান্নার গ্যাস সংকটের ছবিটা স্পষ্ট। এরইমাঝে সুখবর মিলল। সোমবার ৪৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে গুজরাতের মুদ্রা বন্দরে নোঙর করেছিল ভারতীয় ট্যাঙ্কার ‘শিবালিক’। গভীর রাতে প্রায় আড়াইটে নাগাদ গুজরাতের কান্ডলা বন্দরে পৌঁছল দেশের আর এক ট্যাঙ্কার ‘নন্দাদেবী’। যুদ্ধবিধ্বস্ত হরমুজ পেরিয়ে আরও ৪৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে এসেছে এটি। এখানেই শেষ নয়। হরমুজ সমুদ্র পথে আটকে থাকা আরও ২২ ভারতীয় জাহাজকে নিরাপদে ফেরাতে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার এমনই জানালেন কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা।
দুই ভারতীয় ট্যাঙ্কার মোট ৯২ হাজার ৭১২ টন এলপিজি নিয়ে এসেছে। ইজরায়েল, আমেরিকা ও তাদের মিত্রদেশগুলি তেহরানের নিশানায় থাকলেও আগেই ছাড়পত্র পেয়েছে ভারত। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে জাহাজ বের করে আনা নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে শিবালিক ও নন্দাদেবী পৌঁছতেই অনেকটা স্বস্তি মিলেছে। ১৩ মার্চ যাত্রা শুরু করেছিল দু’টি ট্যাঙ্কার। ১৪ মার্চ ভোরের দিকে তারা হরমুজ প্রণালী পার করে বলে জানা গিয়েছে। এখনও ৬১১ জন নাবিক নিয়ে ২২টি ভারতীয় জাহাজ আটকে রয়েছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিবের কথায়, হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম দিকে রয়েছে ২২টি জাহাজ। এদের মধ্যে ছটি এলপিজি, একটি এলএনজি, চারটি অপরিশোধিত তেল ট্যাঙ্কার। এছাড়াও রাসায়নিক দ্রব্য বোঝাই একাধিক জাহাজ রয়েছে। সেগুলিকে দ্রুত ফেরাতে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষ সচিব।
গতকাল একটি খবরকে কেন্দ্র করে জোরচর্চা শুরু হয়েছিল। ভারতে আটক ৩টি তেলবাহী জাহাজ নাকি ফেরত চেয়েছে ইরান। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য খারিজ করে দিল ভারত। এদিন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘এই তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এনিয়ে কোনোরকম আলোচনা হয়নি। ওই তিনটি জাহাজ ইরানের নয়।’ উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি জাহাজগুলি মুম্বই উপকূলে আটক করে ভারতের উপকূলরক্ষী বাহিনী। অভিযোগ, এই জাহাজগুলির সাহায্যে ইরান লুকিয়ে তেল পাচার করত।