নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুরসভার কন্ট্রোল রুমকে আরও ইন্টিগ্রেটেড, আধুনিক এবং কার্যকরী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঠিক হয়েছে, কলকাতা পুলিশের আরও অনেক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পুরসভার কন্ট্রোল রুমের আওতায় নিয়ে আসা হবে। বুধবার পুরসভায় এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পুরসচিব কিশোরকুমার বিশ্বাস এবং পুরসভার বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা। ছিলেন লালবাজারের প্রতিনিধিও।
বৈঠক সূত্রে খবর, শহরের বুকে মোট ২৮০টি জল জমার ‘স্পট’ চিহ্নিত রয়েছে। সেসব স্পট বা রাস্তার ফুটেজ পুরসভার কন্ট্রোল রুমে বর্তমানে দেখা যায় না। এদিনের বৈঠকে লালবাজারকে সেসব লোকেশনে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পুরসভার সঙ্গে ‘শেয়ার’ করার অনুরোধ জানানো হয়। লালবাজারে তরফেও সম্মতি মিলেছে বলে খবর। সেক্ষেত্রে বৃষ্টিতে রাস্তায় জল জমলে সহজেই তার ছবি পুরসভার কন্ট্রোল রুমে বসে দেখা যাবে। তাতে জল নামানোর প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে বলেই দাবি পুরসভার আধিকারিকদের। সূত্রের খবর, কয়েক বছর আগে যখন পুরসভার আধুনিক কন্ট্রোল রুম প্রথম চালু হয়েছিল, তখন লালবাজারে তরফে শহরের মাত্র ৫০টি লোকেশনের সিসি ক্যামেরার সংযোগ পুরসভার কন্ট্রোল রুমে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে দফায় দফায় বৈঠক করে বর্তমানে শহরের ৬০০টি স্পটের সিসি ক্যামের ফুটেজ লালবাজারের কন্ট্রোল রুম থেকে পুরসভার কন্ট্রোল রুমে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আরও ২৮০টি স্পটের তালিকা তুলে দেওয়া হয়েছে লালবাজারের হাতে।
আরও আলোচনা হয়েছে, ‘১০০ ডায়াল’-এর খবরও এবার পুরসভার কন্ট্রোলরুমে পাঠাবে লালবাজার। ‘১০০ ডায়ালে’ বাড়ি ভাঙা, গাছ ভেঙে পড়া বা পুরসভার অন্যান্য কাজ নিয়ে কোনো সমস্যা বা অভিযোগ এলে তা পুরসভার কন্ট্রোল রুমেও চলে আসবে। অফিসাররা জানাচ্ছেন, বর্তমানে কোনো খবর লালবাজারের কন্ট্রোল রুমে এলে পুলিশের তরফে পুরসভাকে ফোন করে তা জানানো হয়। নয়া পদ্ধতিতে (পোশাকি নাম এপিআই সিস্টেম) কোনো খবর লালবাজারে জমা পড়লে তা এক ক্লিকেই সরাসরি পুরসভার কন্ট্রোল রুমে চলে আসবে।
পাশাপাশি, পুরসভার বিভিন্ন নিকাশি পাম্পিং স্টেশনে সেন্সর লাগানো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সেই সঙ্গে শহরের যেসব রাস্তায় নিয়মিত জল জমে, সেখানে লাগানো হবে ওই সেন্সর। গোটা সিস্টেম সরাসরি পুরসভার কন্ট্রোল রুম থেকেই তদারকি করা যাবে। বৃষ্টির ফলে কোনো রাস্তায় নির্দিষ্ট সীমার উপরে জলস্তর উঠলে সঙ্গে সঙ্গে তার সিগন্যাল চলে আসবে পুরসভায়। প্রয়োজনে সেখানে মেশিন-গাড়ি পাঠিয়ে জমা জল নামানোর ব্যবস্থা করবে নিকাশি বিভাগ। এমনকি, বৃষ্টির সময় কোন পাম্পিং স্টেশন কাজ করছে, কোনটা করছে না, কোনো পাম্পিং স্টেশনে কতটা বৃষ্টির জল আসছে বা ছাড়া হচ্ছে, তাও কন্ট্রোল রুমে ধরা পড়বে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।