Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সামনেই বর্ষা, আরামবাগে বাঁধের অবস্থা খতিয়ে দেখতে পরিদর্শন শুরু সেচদপ্তর, ব্লক প্রশাসনের

সামনেই বর্ষা। তার আগে নদী বাঁধের অবস্থা কেমন রয়েছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নির্দেশ দিল প্রশাসন। সম্প্রতি হুগলির জেলাশাসক এই ব্যাপারে বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সামনেই বর্ষা, আরামবাগে বাঁধের অবস্থা খতিয়ে দেখতে পরিদর্শন শুরু সেচদপ্তর, ব্লক প্রশাসনের
  • ২০ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: সামনেই বর্ষা। তার আগে নদী বাঁধের অবস্থা কেমন রয়েছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নির্দেশ দিল প্রশাসন। সম্প্রতি হুগলির জেলাশাসক এই ব্যাপারে বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেইমতো আরামবাগ মহকুমায় সপ্তাহজুড়ে শুরু হল সেচ দপ্তর ও ব্লক প্রশাসনের যৌথ পরিদর্শন। মঙ্গলবারই খানাকুল ১ ব্লকে পরিদর্শনে বের হন ইঞ্জিনিয়াররা। 

Advertisement

ফি বছর বর্ষা এলেই বন্যার আতঙ্ক নিয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখেন আরামবাগ মহকুমার বাসিন্দারা। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর বন্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বাসিন্দারা আশা করছেন। তবে এরই মধ্যে প্রশাসন প্রাক বর্ষাকালীন বিপর্যয় মোকাবিলার কাজে জোর দেওয়া শুরু করেছে। এই ব্যাপারে পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, আগের সরকার বন্যা মোকাবিলার নামে কোটি, কোটি টাকা লুট করেছে। নদী বাঁধগুলির প্রয়োজনীয় মেরামত হয়নি। তার জেরে পুরশুড়া, আরামবাগ ও খানাকুলে একাধিক জায়গায় নদী বাঁধ দুর্বল হয়ে ভেঙে গিয়েছে। কিন্তু এবার সেসব হবে না। প্রশাসন যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার মণিশঙ্কর দত্ত বলেন, বর্ষার আগে বাঁধের কিছু কাজ হয়। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া হচ্ছে। তাছাড়া এদিন থেকে মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় নদী বাঁধের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। স্পর্শকাতর বাঁধের অংশ চিহ্নিত করে সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিন খানাকুল ১ ব্লক পরিদর্শন করেন দপ্তরের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়াররা। একইসঙ্গে হরিপালেও যৌথ পরিদর্শন হয়। তাঁদের রিপোর্টের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হবে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী তিনদিনের মধ্যে খানাকুল ১, ২, আরামবাগ ও পুরশুড়া ব্লকের মুণ্ডেশ্বরী, দামোদর, দ্বারকেশ্বর ও রূপনারায়ণ নদ-নদীতে বাঁধের অবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। যৌথ পরিদর্শনে সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে বিডিও অফিসের আধিকারিকরাও থাকছেন। প্রয়োজনে পুলিশকেও রাখা হচ্ছে। এদিন সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা পূর্ব রাধানগর এলাকায় নদী বাঁধের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বাঁধের স্পর্শকাতর অংশ চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি সেচ দপ্তরের। পরবর্তী ক্ষেত্রে সেখানে বাঁধ রক্ষার কাজও হবে। 
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আরামবাগ মহকুমায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির দেখা দিয়েছিল। আরামবাগ, পুরশুড়া ও খানাকুলের বিভিন্ন জায়গায় নদীর বাঁধ ভেঙে গিয়ে গোটা গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। জলবন্দি হয়ে পড়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। তাই বন্যা পরিস্থিতি রুখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার দাবিও  রয়েছে।   নদীর পাড় পরিদর্শনে সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার সহ ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ