নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা প্রবেশ করল। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার পুরো এলাকায় বর্ষাকাল শুরু হয়ে গিয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলার বেশিরভাগ জায়গায় এবং দার্জিলিং জেলার কিছু অংশে বর্ষা প্রবেশ করেছে। আগামী চার-পাঁচদিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের আরো কিছু অংশে বর্ষা প্রবেশ করবে। জানাল হাওয়া অফিস। তার মধ্যে দক্ষিণবঙ্গেরও কিছু অংশ থাকবে। আশা করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। ওই সময়ে বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশারও কিছু অংশে বর্ষার প্রবেশ ঘটবে। উত্তরবঙ্গে বর্ষা আগমনের স্বাভাবিক দিন ৫ জুন। এবার বর্ষা ঢুকতে দিনচারেক দেরি করল। দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা আসার স্বাভাবিক দিন ১০ জুন। আবহাওয়া বিজ্ঞানের দিক থেকে নির্দিষ্ট সময়ের সাতদিন আগে-পিছে বর্ষার আগমনও ‘স্বাভবিক’ বলে ধরা হয়।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গের যেসব স্থানে বর্ষা ঢুকেছে সেখানে কোনো কোনো জায়গায় মঙ্গলবার ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের মতো পরিস্থিতি ছিল। তাই ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়। আজ বুধবারও দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও দুই দিনাজপুর জেলায়। শুক্র ও শনিবারও জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। এইসময়ে কোনো কোনো স্থানে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝড় বয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা আছে।
দক্ষিণবঙ্গেও আগামী কয়েকদিন বজ্রপাতসহ বৃষ্টি এবং তার সঙ্গে ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের কিছু স্থানে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে। একাধিক জেলায় ঝড়বৃষ্টির ‘কমলা’ সতর্কতা থাকছে আজ ও আগামীকালের জন্য। তবে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে আজ বুধবারও অস্বস্তিকর গরম চলবে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থানের কারণে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প রাজ্যের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছে। পূর্ব বিহার থেকে বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা দক্ষিণবঙ্গের উপকূলের উপর দিয়ে গিয়েছে। হিমালয় লাগোয়া উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের উপর রয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্ত। এসব কারণে রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির মেঘ তৈরি হবে। বেশি বৃষ্টি হবে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও লাগোয়া এলাকায়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির হিসাবে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি বেশি হয়েছে। জলপাইগুড়ির গয়েরকাঁটায় সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৮২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে নদীয়ার কল্যাণীতে সর্বাধিক ৪২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে।