Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মঙ্গলকোটে বেপরোয়াভাবে অজয়ের পাড় কাটছে মাফিয়ারা, গতিপথ বদলের শঙ্কা

মঙ্গলকোটে অজয়ে বালি প্রায় নেই বললেই চলে। তাই মাফিয়াদের নজর এখন নদীর পাড়ের জমির মাটি।

মঙ্গলকোটে বেপরোয়াভাবে অজয়ের পাড় কাটছে মাফিয়ারা, গতিপথ বদলের শঙ্কা
  • ১১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: মঙ্গলকোটে অজয়ে বালি প্রায় নেই বললেই চলে। তাই মাফিয়াদের নজর এখন নদীর পাড়ের জমির মাটি। মাটি কেটে সাপ্লাই দিতে পারলেই আসছে টাকা। তা নিয়ে মাফিয়াদের মধ্যে মারপিট লেগেই থাকছে। মঙ্গলকোটে সাগিরা, কুরগ্রাম, মঙ্গলচণ্ডী এলাকায় নদীর পাড়ের চরে বড় বড় গর্ত তৈরি করে মাটি লুট করা হচ্ছে। আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা বাধা দিতে গেলেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা।

Advertisement

বাসিন্দাদের অভিযোগ, অজয়ের পাড়ে জেসিবি দিয়ে যেভাবে মাটি কাটা হয়েছে তাতে জল বাড়লেই নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যাবে। দেড়শো থেকে ৫০০মিটার পর্যন্ত টানেল তৈরি করে মাটি লুট করা হয়েছে। কোথাও আবার বড় দিঘির মতো গর্ত করে নদীর পাড়ের মাটি লুট করা হয়েছে। মাটিবোঝাই ট্রাক্টর যাতায়াতের ফলে গ্রামগুলির রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বর্ষায় অজয় ছাপিয়ে গেলে কয়েকটি গ্রামের আর অস্তিত্বই থাকবে না। পুলিস প্রশাসন সব জেনেও নিশ্চুপ রয়েছে। এর পিছনে শাসকদলের একাংশের মদত রয়েছে বলেও গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ। গুসকরা সার্কেলের সেচদপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সামসুল হক বলেন, আমরা গিয়ে পরিস্থিতি দেখে রিপোর্ট তৈরি করব। 
মঙ্গলকোটে অজয়ের বাঁধের নীচেই লাখুরিয়া পঞ্চায়েতের সাগিরা, কোগ্রাম, কুরগ্রামের অবস্থান। এসব গ্রামের বাসিন্দাদের অন্য গ্রামের ভিতর দিয়ে গিয়ে নতুনহাট-গুসকরা রাস্তায় উঠতে হয়। কোগ্রামের রাস্তা থাকলেও দিনরাত মাটিবোঝাই ট্রাক্টর চলাচল করায় দফারফা অবস্থা বলে অভিযোগ। গ্রামগুলিতে ঢুকতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বন্যাকবলিত গ্রামগুলির ছেলে-মেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। 
সাগিরা গ্রামের বাঁধের উপর দিয়ে কুরগ্রামের দিকে যেতেই ডানদিকে মাটি মাফিয়াদের ‘কীর্তি’ চোখে পড়ছে। জেসিবি মেশিনে মাটি কাটতে কাটতে এক্কেবারে নদীর ধারে চলে গিয়েছে। কার্যত টানেল তৈরি হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৫০০মিটার এলাকা গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বর্ষা এলেই সাগিরা, কুরগ্রামের আর অস্তিত্বই হয়তো থাকবে না। এই মাটি মোটা টাকার বিনিময়ে বেশ কয়েকটি ইটভাটায় সাপ্লাই হচ্ছে। মঙ্গলচণ্ডীর কাছে অবস্থা আরও বিপজ্জনক হয়ে রয়েছে। তা সত্ত্বেও নিশ্চুপ ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। 
কুরগ্রামের বাসিন্দা কুড়োরাম মাঝি বলেন, সাগিরা গ্রাম থেকে কুরগ্রাম আসার রাস্তায় নদীর পাড়ে জেসিবি দিয়ে বড় বড় দিঘি কেটে ফেলা হয়েছে। মাটিভর্তি ট্রাক্টর গ্রামের ভিতর দিয়ে যাতায়াতের ফলে রাস্তার দফারফা অবস্থা। বাধা দিতে গেলেই মারধর করে আমাদের চুপ করিয়ে রাখা হচ্ছে। প্রশাসন ব্যবস্থা নেয় না। আমরা তাহলে কোথায় যাব? অনেকেই মাফিয়াদের অত্যাচারে গ্রাম ছেড়ে নতুনহাটে চলে গিয়েছে। আর এক বাসিন্দা করুণা মাঝি বলেন, ছেলেমেয়েরা নিশ্চিন্তে স্কুলে যেতে পারছে না। প্রতিবাদ করতে গেলেই বাড়িতে ঢুকে বোমাবাজি করবে। ছেলেদের উপর অত্যাচার করবে। মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী বলেন, মাটির কারবারের সঙ্গে আমাদের দলের কেউ যুক্ত নেই। ভূমিদপ্তরের কাটোয়া মহকুমা আধিকারিক অর্পিতা দাস বলেন, আমরা শীঘ্রই অভিযানে নামব। কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সম্পর্কিত সংবাদ