নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: শালবনীতে জমি ও চাকরি দুর্নীতিরকালো টাকা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি’র) তহবিলে জমা পড়েছে। আর গোটাটাই হয়েছে তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে। সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদে এমনটাই জানিয়েছেন অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। এই তথ্যই ফরওয়ার্ডিং রিপোর্টে শনিবার আদালতে জমা দিয়েছেন সিআইডি’র তদন্তকারীরা। এমনকি এও জানানো হয়েছে, দলের কাজে সুমিত একাধিকবার শালবনীতে গিয়েছেন। সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব বলেন, সুমিত রায় সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। সুমিতের ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। আগামী দিনে আরও তথ্য সামনে আসবে। এই মুহূর্তে সবকিছু সামনে আনা সম্ভব নয়।
আদালতে সিআইডির তরফে পেশ করা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, টি ঘোষ নামে এক ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে সুমিত রায়ের কাছে টাকা পৌঁছে যেত। এই টাকা জমা পড়ত টিএমসিপি’র তহবিলে। ৭ কোটি টাকা জমা পড়েছিল অ্যাকাউন্টে। সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, আট দিনের হেপাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়কের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
সিআইডি হেপাজত শেষে এদিন মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হয় সুমিতকে। একইসঙ্গে শালবনীর জমি দুর্নীতি মামলায় ধৃত অমিত ঘোষ সহ মোট চারজনকে আদালতে তোলা হয়। এদিন আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোটে পড়ার মতো। শুনানি শেষে সুমিত রায় ও তাঁর সঙ্গে থাকা তিন ‘লিঙ্কম্যান’কে আরও পাঁচদিনের সিআইডি হেপাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। ওই তিনজনের জামিনের আবেদনও খারিজ হয়েছে। সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, আটদিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদে সুমিত রায় ও তিন লিঙ্কম্যানের কাছ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। জমি সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন এবং এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে খবর। তদন্তকারীদের দাবি, এই মামলার তদন্তে ইতিমধ্যেই পাঁচটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বাজেয়াপ্ত মোবাইল ও নথি খতিয়ে দেখে লেনদেন এবং অভিযুক্তদের পারস্পরিক যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। এদিন মেদিনীপুর আদালতে সুমিত রায়ের স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।